শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন

ভিভিআইপি প্রটোকল নিয়েই জ্যামে বসে থাকলেন ড. ইউনূস!

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪
  • ৫৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতানুগতিক প্রথা ভেঙে ভিভিআইপি প্রটোকল নিয়ে জ্যামের মধ্যেই বসে ছিলেন। ঢাকার সড়কে অন্যান্য গণপরিবহণের সঙ্গেই চলেছে তার গাড়ি বহর। ব্যস্ত সড়কে যানজটের কারণে কয়েক মিনিট বসেছিলেন তিনি। তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রটোকলে নিয়োজিত থাকা সদস্যরা যানজটের মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জানা গেছে, রোববার ড. ইউনূসের গাড়িবহর রাজধানীর হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম সংলগ্ন বক চত্বর এলাকা থাকা অবস্থায় ভিডিওটি করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে আনতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভিডিওতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী লেখা ড. ইউনূসের গাড়ি ঘিরে রেখেছেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা। এ সময় চারপাশের উৎসুক জনতাকে লক্ষ্য করে বলতে শোনা যায়, আপনারা সবাই রাস্তার ধারেই দাঁড়িয়ে থাকুন। নিরাপদ দূরত্বে থাকুন। রাস্তা থেকে দূরে দাঁড়ান। কোনো গাড়ি ভেতরে ঢোকাবেন না। বাম পাশের রিকশা ডান পাশের লেনে ঢোকাবেন না। কেউ রাস্তা ক্রস করার চেষ্টা করবেন না।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিরাপত্তা প্রটোকল বিধি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলের সময় সড়কের এক পাশ খালি করে চলাচলের বিধান রয়েছে। তাদের চলাচলের ১৫ মিনিট আগে থেকেই নির্দিষ্ট সড়কটির একপাশ ফাঁকা করে সেখানে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে রাখার নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

ভিআইপি কে?

ভিআইপি বা ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন—এই শব্দগুলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের আইনে প্রবেশ করে সামরিক শাসকের হাত ধরে। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্স-১৯৮৬’ শিরোনামে একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত সরকারের আমলে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে দ্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের ওই আইনের অধীনে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) গঠিত হয়।

দ্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের ধারা ৮(১) অনুযায়ী, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক নিরাপত্তা প্রদান করা। ‘ভিভিআইপি’ শব্দটি সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও এ থেকে বোঝা যায়, আইন অনুযায়ী ‘ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন’ হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

ভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রটোকলের নিমিত্তে বাংলাদেশের প্রশাসন একটি ‘নিরাপত্তা প্রটোকল রেড বুক’ অনুসরণ করে থাকে। রেড বুক অনুসারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি। ভিআইপি হলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র সচিব, সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশের প্রধান।

মন্ত্রী বলতে পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী সবাইকে বোঝায়। বিচারপতি বলতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বোঝায় আর সচিব বলতে বোঝায় সচিব পদমর্যাদার সবাইকে। তবে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য যে কাউকে ভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। বিধি অনুযায়ী, ভিআইপিরা সরকারি প্রটোকল, নিরাপত্তা ও আবাসন পেয়ে থাকেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী বর্তমানে দেশের সরকার প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস ভিভিআইপি মুভমেন্ট সুবিধা নিতে পারেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ অগাস্ট ২০২৪,/রাত ১০:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit