এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে যশোরের চৌগাছায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় কিছু দুস্কৃতকারিরা। এরা সংখ্যালঘুদের উপরে হামলা করছে। তাদের হামলায় সংখ্যা লঘু পরিবারসহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শহরে ব্যবসায়িদের কাছে চাঁদা দাবি, বিল-বাওড়ের ও পুকুরেরমাছ লুটসহ নানা রকম অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এ সব দুস্কৃতকারিদের অপকর্মের কারণে আতঙ্কিত উপজেলার সাধারণ মানুষ। এদিকে যারা সন্ত্রাসি কার্যক্রম করছে দলে তাদের ঠাইনেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিনে উপজেলায় দুস্কৃতকারিদের হামলায় যারা আহত হয়েছেন তারা হলেন, উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গ্রামের মৃত শ্যামপদের ছেলে শ্রী বিশে পদ (৬০), ওরজুনের ছেলে শ্রী তাপস (২০), টেংগুরপুর গ্রামের মৃত লুৎফর খানের ছেলে বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্ট, ভুট্টর ছেলে আবিদ হোসেন (২৩), কুদ্দুসের ছেলে মাহির উদ্দীন, শহরের ডাকবাংলো পাড়ার হানিফ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (২২), কারিগর পাড়ার শহিদুল, আন্দারকোটা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (৩৫), শাহারিয়ার আহমদের ছেলে লিমন হোসেন(৩৫), মথুরাপুর গ্রামের হাবিলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২২), জামিরা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রাসেল মিয়া (৩১), জাহিদের ছেলে আবু তালেব (৫৩), একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৬০), চাঁদপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে বিএনপি কর্মী সেলিম রেজা (৩৬), তাহের পুর গ্রামের মৃত রবিউলের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪০), দিঘলসিংহা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে নয়ন হোসেন (২৬), মাজালী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ইনতাজ আলী (৪৭), ইছাপুর গ্রামের আউবের স্ত্রী ফরিদা বেগম, একই গ্রামের মুকুলের ছেলে ইমন হোসেন(১৯), সলুয়া গ্রামের আমজেদ আলীর স্ত্রী ছবেদা বেগম।
আহতদের মধ্যে জুলফিকার আলী ভুট্ট, শ্রী বিশে ও তাপস চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা গত ৫ দিনের বিভিন্ন সময় চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন আহতদের শরীরে লাঠির আঘাতে কাটা, ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরই সাথে পতন হয় আওয়ামীলীগ সরকারের। এদিন থেকেই সারাদেশে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়। এই সুযোগে উপজেলার কছু দুস্কৃতকারি শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ির কাছে চাঁদ দাবি করে হুমকি দেয়। বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, ৫ আগষ্ট বিকেলে বিএনপি জামায়তের নেতা কর্মীরা যখন আনন্দে লিপ্ত সেই সুযোগে এক শ্রেণির দুস্কৃতকারিরা শহরের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। যারা হামলা চালায় তারা চৌগাছা পৌরসভা ও শহর নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা বলে জানানা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপির কর্মী।
এদিকে শহরে লুট ও হামলার শিকার যেন না হয় সেজন্য ৫ আগষ্ট থেকে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীরা রাত জেগে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দুদের মন্দির পাহারা দিতে দেখাগেছে।পরর্তীদিন ৬ আগষ্ট উপজেলার বল্লভপুর বাওড় লুট করে নেয় এলাকার দুষ্কৃতকারিরা। এখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাওড়ের এলাকায় বেশিরভাগ বাসিন্দারা আওয়ামীলীগের সমর্থিত। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বাওড় কেন্দ্রিক একটা গোলোযোগ চলছিল। সরকার পতনের সাথে সাথে একটা গ্রুপ রাতারাতি বিএনপি বনে যায়। এরাই বল্লভপুর গ্রামের সংখ্যালঘুদের বাড়িতে গিয়ে লুট করে নেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। পরে তারা বাওড়ের মাছ লুট করে নেয়।
উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুদের বসবাস রয়েছে পাশাপোল ইউনিয়নের হাওলি, বাড়িয়ালি, রানিয়ালি, কালিয়াকুন্ডি এবং দুড়িয়ালি গ্রামে। খোজ নিয়ে জানা গেছে এখানকার সংখ্যালঘু বাসিন্দাদের বাড়িতেও হুমকি দিচ্ছে দুস্কৃতকারিরা। কয়েকজনের কাছে চাঁদা দাবি করার খবরও পাওয়া গেছে।পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওঃ আব্দুল কাদের বলেন, আমরা সংখ্যালঘু ভাইদের সাথে তাদের স্থাপনা ও মন্দির পাহারা দিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। তার পরেও দুস্কৃতকারিা কয়েকটি বিচ্ছন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, আশা করি এর পরে আর কোনো দূর্ঘটনা ঘটবেনা।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপি আহবায়ক জহুরুল ইসলাম বলেন, দেশের যেকোনো উপজেলার চেয়ে চৌগাছা অনেক ভালো রয়েছে। এই উপজেলা একটি শান্তজনপদ। তারপরেও এখানে দুইএকটি ছোট খাট দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। বিএনপি কোনো নৈরাজ্যকারিকে তাদের দলে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেনা। যারা বিএনপির নামে অপকর্ম করছে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। প্রমান পেলে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শুক্রবার থেকে চৌগাছা থানার পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে ছাড় দেওয়া হবেনা।
কিউএনবি/অনিমা/০৯ অগাস্ট ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৫৫