বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

মুক্তিপণ আদায়ে যেভাবে দরকষাকষি করে সোমালিয়ার দস্যুরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৫৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, জিম্মি করার পর শুরুতে জলদস্যুরা জাহাজে থাকা সব নথি ঘেঁটে মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর ‘বিশ্বস্ত’ একজন মধ্যস্থতাকারী মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে। 

জানা গেছে, জলদস্যুরা খুব বেশিদিন একটি জাহাজ আটকে রাখতে পারে না এবং তারা সেটি করতেও চায়ও না। তাই দ্রুত মুক্তিপণ আদায়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন ও দরকষাকষি করতে হয়। সাধারণত ২০০০ সালের পর ছাপা হওয়া ৫০ কিংবা ১০০ ডলারের নোটে মুক্তিপণ পরিশোধ করতে চায় জলদস্যুরা।

জাহাজ ছিনতাই, নাবিক-ক্রুদের জিম্মি করা থেকে শুরু করে মুক্তিপণ আদায়; বিপজ্জনক এ ধরনের কাজ জলদস্যুরা করলেও মুক্তিপণের ভাগ তারাই সবচেয়ে কম পায়। কারণ, শুরুতেই ‘বিনিয়োগকারীরা’ ভাগের বড় অংশটি কেটে রাখে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিমা কোম্পানিগুলোও। বলা হয়, জলদস্যুরা বছরে যে পরিমাণ আয় করে, তার ১০ গুণ বেশি অর্থ পকেটে ভরে এসব কোম্পানি।

 
বেশ কয়েকটি জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানির বিমা করা থাকে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তারা বিমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা জলদস্যুদের মধ্যস্থাতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি হলে, মালিকপক্ষ একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুক্তিপণের অর্থ পৌঁছে দিতে চুক্তি করে।

মধ্যস্থতাকারী চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইনজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে। জানা যায়, আইনজীবীরা প্রায় তিন লাখ ডলার ফি নেন। আর মুক্তিপণের অর্থ পৌঁছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান নেয় প্রায় এক লাখ ডলার। পাশাপাশি জাহাজের খরচ হিসেবে আরও ১০ লাখ ডলার দেয়া হয়। মুক্তিপণের অর্থ আসল, নাকি নকল, সেটা যাচাই করার পরই জলদস্যুরা জিম্মি করা জাহাজ এবং নাবিক ও ক্রুদের মুক্তি দেয়।

 
উল্লেখ্য, মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।

পণ্যবাহী জাহাজটি কয়লা নিয়ে ভারত মহাসাগর হয়ে মোজাম্বিক থেকে আরব আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্য ছিল দুবাই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষীসহ চলাচলের আন্তর্জাতিক নিয়ম থাকলেও, এই জাহাজে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ মার্চ ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৪৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit