ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গত দুইদিনে ৭৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি জানাচ্ছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বর্তমানে ধনীর সন্তানেরাও জড়িয়ে যাচ্ছে। মারামারিসহ হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ‘ইয়ংস্টার’, ‘বিগবস’, ‘ডিস্কো বয়েজ’, ‘বন্ধুমহল’, ‘শীলবিষু গ্যাং’, ‘পারভেজ গ্রুপ’, ‘রুস্তম গ্রুপ’, ‘ইয়ংস্টার গ্রুপ’, ‘নাইনএমএম গ্রুপ’, ‘নাইন স্টার গ্রুপ’ বিভিন্ন সময় মানুষের ক্ষতি করে আসছে। রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সদস্যদের আটক করা হয়। এই কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলো মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানান অপরাধ করে আসছে। কতিপয় বড় ভাইয়ের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে। এমনকী এরা চুরি ছিনতাই করে আসছে। এই সব কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গত দুই বছরে ৩৪ জন কিশোর নিহত হয়েছে।
মোহাম্মদ হারুন বলেন, আমরা এক সময়ে মনে করতাম, ভাসমান ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের সন্তানেরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উচ্চ-মধ্যবিত্ত, ধনীদের সন্তানেরা এসব কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং, চলাফেরা সবই ভীতিকর। এই সব ধনীর সন্তানেরা প্রথমে মাদক সেবন, পরবর্তীতে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তারা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বড়ভাই আবার কখনো কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থেকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের ছত্রছায়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর প্রেক্ষিতে গত দুইদিনে ৭৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত থাকার কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।
কিশোর গ্যাং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ উল্লেখ করে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এখন যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে, এর কারণ এই কিশোর গ্যাং। এই সব কিশোরেরা স্কুলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদক সেবনের মতো খারাপ কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রম ঠেকাতে আমরা গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছি। তবে আমি মনে করি, অভিভাবকদের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে তার খোঁজ রাখা। আসলে আটক করে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না।সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দেওয়া বড় ভাইদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা অনেকের নাম পেয়েছি। এই সব নাম তদন্ত করে আমরা দেখবো কারা কারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। তবে আমি মনে করি, এই সব কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধ করার তথ্য তো কাউন্সিলররা জানেন।
হারুন বলেন, মাহফিল ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের নামে এক হচ্ছে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। নানা গ্রুপের সদস্যরা কিন্তু বড়ভাই বা রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। মাদক ব্যবসাসহ নানান অপরাধ করে। কিশোর গ্যাংয়ের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের কিশোর গ্যাং দমনে এগিয়ে আসতে হবে। তবে কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এই বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০৬ মার্চ ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:০০