প্রকাশের আগেই ঝড় তুলেছে ড. ইসমেত আরা মুন এর ‘আমার যত কথা’
—————————————————————————–
ড. ইসমেত আরা মুন একজন অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, গবেষক, সোশ্যাল ওয়ার্কার এবং উইমেন এন্টারপ্রেনর। বিদুষী, মেধাবী, চৌকষ ড. ইসমেত আরা মুন এবারে বইমেলা ২০২৪ উপলক্ষে লিখেছেন ”আমার যত কথা”। তিনি তার শৈশব থেকে কিশোরীবেলা এরপর তারুণ্যময় জীবনের কথা তুলে ধরেছেন এক কাব্যময় অনুভূতির মাঝে। সুদূর কানাডায় বসে দেশ দেশান্তরে বিশাল কর্মময় জীবন উপস্থাপন করেছেন যেন এক তুলির আঁচড়ে।
রাদ্ধ প্রকাশ থেকে প্রকাশিতব্য ‘আমার যত কথা’ আত্মজীবনীমূলক বা আত্মকথা নয়। জীবনের গল্প উপস্থাপনে এখানে বিধৃত হয়েছে এক আনন্দ বেদনার কাব্য। সংগ্রাম মুখর জীবনে শিক্ষা গবেষণা শেষে অর্জিত সাফল্যের কথা দিয়ে রচিত হয়েছে আমার যত কথা। জীবন গল্পের মাঝে হাসি কান্না সুখ দুঃখের মিশ্রণ ঘটিয়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগার সুখানুভুতি সৃষ্টি করেছে ‘আমার যত কথা’।

ড. ইসমেত আরা মুন
ড. ইসমেত আরা মুন টাঙ্গাইলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা প্রয়াত মোঃ ইসমাইল হুসাইন মিয়া যুগ্ম-সচিব হিসাবে এবং মা মিসেস হোসনে আরা বেগম জোসনা বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ডাইরেক্টর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। চার ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয়া ড.মুনের শিক্ষা জীবন শুরু হয় টাঙ্গাইলে।
‘আমার যত কথা’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ‘আমার যত কথা’ নিয়ে ফেসবুকে গ্ৰুপ ও পেজ খোলা হয়েছে। তাছাড়া আগ্রহী পাঠকগণ ‘আমার যত কথা’র চুম্বকীয় অংশ পোস্ট করছেন তাদের ফেসবুক টাইমলাইনে। ড. ইসমেত আরা মুন এর ‘আমার যত কথা’ প্রকাশ হওয়ার আগেই পাঠক মহলে যথেষ্ট আলোচনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
কি আছে এই আত্মজীবনীমূলক ‘আমার যত কথা’ গ্রন্থটিতে ? এ বিষয়ে লেখিকা ড. ইসমেত আরা মুন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , আমি আমার জীবনের গল্প বলেছি সাদামাটা কথামালায়। জীবনের নিগূঢ় সত্য উপস্থাপনে কার্পণ্য করার চেষ্টা করিনি। সম্ভবতঃ এ কারণে পাঠক মহল আমার গ্রন্থটির বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে আমি চাই বই মেলায় বইটি প্রকাশ হলে পাঠকগণ যেন বইটি পড়েন ,পুরো বইটি পড়লে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাবে আশাকরি।
ড. ইসমেত আরা মুন বিন্দুবাসিনী সরকারি গার্লস হাই স্কুল, টাঙ্গাইল থেকে এসএসসি, কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপরে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইফ সাইন্স অনুষদের বোটানি ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে অনার্স এবং এমএসসি পাশ করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি বিসিএসআইআর এ এনএসটি ফেলোশিপ সম্পন্ন করে একজন ফুড মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসাবে যোগদান করেন।

‘আমার যত কথা’র কভার পেজ।
পরবর্তীতে ড.মুন ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়শিয়া থেকে ফুড মাইক্রোবায়োলজিতে ফেলোশিপ এবং ইউনিভার্সিটি মালয়া থেকে জাপানের সংগে যৌথ গবেষণায় এনভায়োরোনমেন্টাল এন্ড মলিকিউলার বায়োটেকনোলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। জাপানের রিকেন এ জেএসপিএস এর অধীনে এবং টোকিও কিতা সাতো ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ অর্জন করেন। পরবর্তীতে শিবা কেইনের এনবিআরসি -ডিএনএ সেন্টারে সিনিয়র রিসার্চ সাইন্টিস্টস হিসাবে যোগদান করেন।
সৌদি আরবে সরকারি কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করে ইতোপূর্বে কানাডায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করায় তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি কানাডা থেকে। ৮ টি দেশ থেকে তিনি পদক লাভ করেছেন। মাটি ও গাছ উন্নতকরণে তিনি যুগান্তসৃষ্টিকারী রি-ডিসকভার করেন ”এক্টিনোমাইসিটিস ”নামক নতুন প্রজাতির অনেক ব্যাকটেরিয়া।
বৈবাহিক জীবনে তিনি আবদ্ধা হন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী প্রফেসর ড.আব্দুল বাকির রনির সংগে। তিনি এখন প্রয়াত। একমাত্র কন্যা আনিকা তাহসিন লিয়াকে নিয়ে ড.ইসমেত আরা মুন স্থায়ী ভাবে বাস করছেন কানাডার টরোন্টোতে। ‘আমার যত কথা’ তার প্রথম প্রকাশনা গ্রন্থ।ড. ইসমেত আরা মুন তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের জন্যে সকলের নিকট শুভেচ্ছা কামনা করেছেন।
কিউএনবি/নাহিদা। ২১.০১.২০২৪/সকাল ৯.৪০