শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নোয়াখালীতে এসিড পান করে যুবকের মৃত্যু পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার অপচেষ্টা, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ নরসিংদীতে যুবদল নেতাকে কাফন পাঠিয়ে হুমকি  ফুটবল খেলার ইচ্ছাই শেষ হয়ে গেছে এমবাপ্পের! রাজধানীতে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, কমবে তাপমাত্রা সৌদির সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি শাহবাজ শরীফের আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ঢাবিতে দু’ দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ হুতিদের ঠেকাতে সৌদিতে ঢুকল পাকিস্তানি সেনা, সামনে নতুন সমীকরণ ‘দুই পৃথিবীর’র পর ফের এক সিনেমায় দেব-জিৎ, তবে শর্ত একটি

আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে বিএনপির চিঠি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩
  • ১৪৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা থেকে শুরু করে চলমান হরতাল-অবরোধে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, বিস্ফোরণ এবং গুপ্তহত্যার বিবরণ তুলে ধরে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে এসব ঘটনার জন্য সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক তদন্তও দাবি করেছে দলটি।

বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছে বিএনপির একটি সূত্র । এমন চিঠি নিয়মিতই যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এতে বলা হয়েছে, সারা দেশে ‘অগ্নিসন্ত্রাস-নাশকতা’র ঘটনা ক্ষমতাসীনরাই ঘটাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে ভীতির রাজত্ব কায়েমের অশুভ উদ্দেশ্যে প্রতিদিন নৈরাজ্যে লিপ্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কর্মীরা। তারা গণপরিবহনে অব্যাহতভাবে অগ্নিসংযোগ করছে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জ্বালাও-পোঁড়াও করে অপরাধীরা খুব সহজে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েছে। অথচ প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে অধিকাংশ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে বা বড় পুলিশ চেকপোস্টের কাছাকাছি ঘটছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রতিরোধে কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে, দেশজুড়ে চলমান নাশকতায় ক্ষমতাসীন অপশক্তি জড়িত। প্রকৃতপক্ষে আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ও তাদের আজ্ঞাবাহী পুলিশ সদস্যরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে চালক বা তাদের সহকারীদের বক্তব্যে স্পষ্ট, কীভাবে পুলিশ বা ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা তাদের বাসে আগুন দেয়ার জন্য দায়ী।

উদাহরণ হিসেবে চিঠিতে গত ৬ই নভেম্বর চট্টগ্রামের চাতরি চৌমহনী বাজারে পুলিশ বক্সের কাছে, ৩১শে অক্টোবর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের কাছে, বাংলামোটর মোড়ে, ২৮শে অক্টোবর কাকরাইলের কাছে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা এবং ৬ই নভেম্বর চট্টগ্রামে একটি ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনায় ফেনীর স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল উদ্দিন টিপুকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার ও ১৪ই নভেম্বর নাটোরের তাশরীক জামান রিফাত নামে আওয়ামী লীগের কর্মীকে মুখোশসহ গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের সর্বত্র পুলিশ-র‍্যাবের শত শত পেট্রোল টিম এবং বিজেবির শত শত প্লাটুন অস্ত্রসজ্জিত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশের সশস্ত্র পূর্ণাঙ্গ সুসংহত টহল রয়েছে।

বাংলাদেশ যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বিরোধী দলের সদস্য কোনো প্রকার সহিংসতা বা অগ্নিসংযোগের কাজে লিপ্ত হবে এই দাবি সর্বত্রই হাস্যকর। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল উপস্থিতির উদ্দেশ্য হয়তো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা যেন নিশ্চিন্তে যানবাহনে আগুন দিতে পারে, জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্যের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বারবার প্রমাণিত হয়েছে, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে…রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বাসে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী নেতাকর্মীরা কীভাবে অগ্নিসংযোগে লিপ্ত হয়। ২০১৪ সালে ছাত্রলীগের ৩ জন সদস্যকে বাসে অগ্নিসংযোগের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের ২ সদস্য ককটেল ও পেট্রলবোমাসহ আটক হয়েছিল, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় পেট্রোল বোমাসহ গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর বাধ্য হয়ে পুলিশ ২ জন যুবলীগ কর্মীকে ছেড়ে দিয়েছিল।

এতে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে বিরোধী দলের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ তার নিজস্ব বিহঙ্গ পরিবহনে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যম মারফত জানা যায়। সেখানে আগুনে ১১ জনের মৃত্যুও হয়েছিল। ২০০৬ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগ ট্রেন এবং বাসে আগুন দিয়ে, পরিবহণ শ্রমিকদের উপর হামলা করে মানুষ হত্যা করেছিল। শেরাটনের সামনে গান পাউডার মেরে বাসে আগুন দেয়াসহ এমন অজস্র দৃষ্টান্ত আছে, যেখানে আওয়ামী লীগ তাদের বিদ্বেষপূর্ণ-বিভাজিত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সহিংসতাকে ব্যবহার করেছ। মানুষ হত্যা করে, জনগণের সহায়-সম্বল ধ্বংস করে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেই দায় বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে, মিথ্যা মামলায় ভিন্ন দল ও মতের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাবার যে বীভৎস রাজনীতি, তা আওয়ামী লীগ লালন করে।

কিউএনবি/বিপুল/২২.১১.২০২৩/দুপুর ১.২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit