এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। ক্রিস ওকস ও ডেভিড উইলির দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ৪০ রান তুলতে ৩ উইকেট হারায় ভারত। শুভমান গিল ৯ ও শ্রেয়াস আইয়ার ৪ রান করলেও এদিন রানের খাতা খুলতেই পারেননি বিরাট কোহলি। কেএল রাহুলের সঙ্গে ৯১ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন ওপেনার রোহিত শর্মা। ৫৮ বলে ৩ চারে ৩৯ রান করে উইলির শিকারে পরিণত হন রাহুল। রাহুলের বিদায়ের পর সূর্যকুমারের সঙ্গে জুটি গড়েন রোহিত। এই জুটিতে ৩৩ রান যোগ করেন তারা।
কঠিন উইকেটে ইংল্যান্ডের বোলিং দারুণ সামলেছেন রোহিত। সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরিকে ডালভাত বানিয়ে ফেলা রোহিতের এদিন একশোর আগেই থেমে যাওয়া ইনিংসটা ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলেই গণ্য হবে। ১০১ বলে ১০ চার ও ৩ ছয়ে ৮৭ রান করে আদিল রশিদের শিকারে পরিণত হন ভারত অধিনায়ক।
রোহিতের বিদায়ের পর আশা যাওয়ার মিছিলেই বিশ্বকাপে প্রথম অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সূর্যকুমার। কিন্তু ৪৭ বলে ৪৯ রান করে উইলির শিকারে পরিণত হন তিনিও। জাসপ্রীত বুমরাহ শেষের দিকে ১৬ রান করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ডেভিড উইলি ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। ক্রিস ওকস ও আদিল রশিদ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। মার্ক উডের ভাগ্যে জোটে ১টি উইকেট।
ভারতের জয়ের নায়ক দুই পেসার জসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামি। ছবি: ক্রিকইনফো
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি ইংল্যান্ড। দাউইদ মালান ও জনি বেয়ারস্টোর ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান আসে। ১৭ বলে ১৬ রান করা মালান বুমরাহর বলে বোল্ড হতেই ধস নামে ইংল্যান্ডের ইনিংসে। মালানকে ফেরানোর পরের বলেই রুটকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন তিনি। ব্যাটিং অর্ডার এগিয়ে নিয়ে চার নম্বরে নেমেছিলেন বেন স্টোকস। কিন্তু ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে যান। পাওয়ার প্লের ১০ ওভার শেষ হওয়ার আগে জনি বেয়ারস্টোর উইকেটও হারায় ইংল্যান্ড। দুরন্ত মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৩ বলে ১৪ রান করেন বেয়ারস্টো। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন কাঁপছে ইংল্যান্ড।
কাছাকাছি অবস্থা থেকে ভারতকে রোহিত উদ্ধার করলেও ইংল্যান্ডকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ জস বাটলার। ১০ রান করেই কুলদিপ যাদবের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৫২! একশর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় থাকা ইংল্যান্ড মঈন আলী ও লিয়াম লিভিংস্টোনের ২৯ রানের জুটিতে কিছুটা শক্তি পায়। কিন্তু ১৫ রান করা মঈনকে ফিরিয়ে ফের উল্লাসে মাতেন শামি। তখন তার বোলিং ফিগারটা দেখার মতন, ৬ রানে ৩ উইকেট!
দলীয় ৯৮ রানে ক্রিস ওকস (১০) ও লিভিংস্টোনের (২৭) উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ওকসকে ফেরান জাদেজা আর ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্কোরার লিভিংস্টোনকে ফেরান কুলদীপ যাদব। ডেভিড উইলি ও আদিল রশিদ মিলে ২৪ রানের জুটিতে একশ পার করিয়ে দেন ইংল্যান্ডকে। ১২২ রানের মাথায় ১৩ রান করা রশিদকে বোল্ড করেন শামি। আরে ১২৯ রানে উডকে দারুণ এক ইয়োর্কারে বিদায় করেন জাসপ্রীত বুমরাহ। ভারতের পক্ষে মোহাম্মদ শামি ৭ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন। বুমরাহ ৩২ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট। ২টি উইকেট শিকার করেন কুলদীপও। বাকি উইকেটটি গেছে রবীন্দ্র জাদেজার ঝুলিতে।