এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় সেই নির্যাতিত বৃদ্ধ পিতা হায়দার আলী লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার ছেলের চেষ্টায় অবশেষে ফিরলেন নিজের বাড়িতে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে ফেরেন। তিনি স্ত্রী সন্তানদের নির্য়াতনের শিকার হয়ে আট মাস নিজের বাড়ির বাহিরে অবস্থান করছিলেন। লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টা ছেলে মুর্তজার চেষ্টায় আট মাস পরে ফিরলেন নিজের বাড়ীতে।
হায়দার আলীর স্বজনরা জানান, নিজের অঘাত-স¤পত্তিই যেনো কাল হয়েছিলো হায়দার আলীর। স¤পত্তির লোভে তার স্ত্রী লতিফা হায়দার, ছেলে আল-ইমরান বাবু, ইমামুল হাসান ও মেয়ে তামান্না নাজনীন লাভলী,স্নেহা পারভীন বিউটি, জেসমিন আক্তার লাকি এবং জেসমিনের স্বামী আলী আহমেদ মিলে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতাকে নানাভাবে অমানসিক ও শারিক ভাবে নির্যাতন করতেন। বৃদ্ধ হায়দারের মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় খাবারের সাথেও বিষ জাতীয় পয়জন মিশিয়ে দেয়া, মারধর করা, এমনকি শীতের রাতে খালি গায়ে বাইরে ফেলে রাখা।কিছুদিন এমন নির্যাতন চলানোর পর বিষয়টি তার আরেক পুত্র ইংল্যান্ডে প্রবাসী ব্যারিস্টার মুর্তজার কানেপৌঁছায়।
তিনি বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে বৃদ্ধ পিতার উপর করা নির্যাতন দেখতে পেয়ে তিনি দেশে (বাড়ি) ফিরে আসেন। এদিকে ব্যারিস্টার মুর্তজারবাড়ি ফিরার খবর পেয়ে আট মাস আগে হঠাৎ বাড়ি-ঘরে তালামেরে বৃদ্ধের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা হায়দার আলীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।ব্যারিস্টার মর্তুজা দেশে ফিরে চৌগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় তার পিতাকে উদ্ধার করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে পিতাকে নিজের জিম্মায় নেন। পিতার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আদালতের মাধ্যমে পিতারচিকিৎসা করাতে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যান। এ সময় আদালতের নির্দেশে হায়দার আলীকে নির্যাতনের অভিযোগে তার ছেলে-মেয়েরা গ্রেফতার হয়। পরে তাদেরকে জেলে পাঠান আদালত।
এদিকে তাদের নির্যাতন থেকে বৃদ্ধ বাবাকে উদ্ধার করা। আইনি লড়াইয়ে তাদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো ও বাবার স¤পত্তির লোভে অন্য ভাই-বোনেরা ব্যারিস্টার মুর্তজাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। বার বার মিথ্যা মামলায় ব্যারিস্টারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। মামলায় ব্যর্থ হয়ে আবারো তারা নানা ষড়যন্ত্র, ফন্দি আটে এবং ব্যারিস্টার মুর্তজার নামে নানা মিথ্যা অপবাদ ছড়াই তারা। এক পর্যায়ে স্ত্রী ছেলে ও কন্যারা মিলে হায়দার আলীর নিজের বাড়িতে তালা মেরে রাখে। যাতে করে হায়দার আলী বাড়িতে উঠতে না পারেন। বাধ্য হয়ে ব্যারিস্টার মুর্তজা তার পিতাকে ভাড়া করা বাসায় রেখে ফুফু, ফুফাতো ভাই, চাচা ও অন্য লোক রেখে দেখভাল ও চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে লন্ডনে ফিরে যান। এ সময় তার অন্য ভাই-বোনেরা স¤পত্তি লোভে পিতাকে আবারো অপহরণের চেষ্টা করেন।
তারা আদালতের মাধ্যমে নিজেদের জিম্মায় নিতে জোর দাবী জানান। তাতেও ব্যর্থ হন তারা। হায়দার আলী জানান আমি লন্ডনেও যাবো না। জীবনের শেষ সময়টুকু নিজ পিতা-মাতার (ভিটায়) বাড়িতে কাটাতে চান বলেব্যারিস্টার পুত্রকে জানান। তিনি তার স্ত্রী, দুই পুত্র ও কন্যাদের দ্বারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অবশেষে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় এবং স্বজনদের সাথে নিয়ে বাড়িতে ফিরেন। এ সময় সন্তানদের মেরে রাখা তালা ভেঙ্গে নিজ ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি বাকরুদ্ধকান্নায় বারবার চোখের পানি মুছতে থাকেন। হায়দার আলী বাড়ি ফেরার সময় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইমান আলী, মাকাপুর বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম, সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কিউএনবি/আয়শা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:০৮