আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের কয়েক হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠানো শুরু করার মালয়েশিয়ার পদক্ষেপে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে’ তাদের ফেরত যাওয়ার সুযোগ নেই। মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া। এটি দেশটির প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্র থেকে ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরতে সম্মত ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের মধ্যে প্রথম দফায় এই ১ হাজার ৫০০ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, ব্যাপক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ইউএনএইচসিআর মনে করে, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি তাদেরকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফেরার সুযোগ দেয় না।’মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাই মাসে ঘোষণা করেন, মিয়ানমার নির্যাতিত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।
বিরল এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে বাস্তুচ্যুত নিজ দেশের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
মঙ্গলবার মিয়ানমারের পথে থাকা প্রথম দফার নাগরিকদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের ১ লাখ ৯০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য।
সল্টমার্শ জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কাউকেই এমন কোনো দেশে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তিনি নিপীড়ন, নির্যাতন, গুরুতর ক্ষতি বা জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য অন্য কোনো হুমকির মুখে পড়তে পারেন।’
কিউএনবি/আয়শা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৩৪