সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ২ কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৭৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : ঢাকার সাথে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রেলযোগাযোগে নতুন দিগন্ত সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ। উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩শ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে স্থাপনা।

ইতিমধ্যে ২২টি স্প্যানে দৃশ্যমান হয়েছে এই রেলসেতুর ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অংশ। রোববার (৬ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প অফিস সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের এই রেলসেতুর নির্মাণে ২০২১ সালের মার্চে সেতুর পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।

ডাব্লিউডি-১ ও ডাব্লিউডি-২ নামে দুটি প্যাকেজে জাপানি ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ডাব্লিউডি-১ প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করছে জাপানি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওবাইসি, টোআ কর্পোরশেন ও জেইসি (ওটিজে) জয়েন্ট ভেঞ্চার। টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর প্রান্তে সেতুর ২৪ থেকে ৫০ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত কাজ করছে তারা। ডাব্লিউডি-২ প্যাকেজটি বাস্তবায়নে রয়েছে জাপানের আইএইচআই ও এসএমসিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।  সিরাজগঞ্জ প্রান্তে ২৩ থেকে ১ নম্বর পিয়ার পর্যন্ত সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে তারা। সেতুটি নির্মাণে জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কর্মী নিয়োজিত আছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের সাব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার মো. রবিউল আলম বলেন, এ সেতুতে ৫০টি পিয়ার, দুটি পিয়ারের মাঝখানে একটি করে অর্থাৎ ৪৯টি স্প্যান বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার। এ পর্যন্ত স্প্যান বসানো হয়েছে ২২টি। ইতিমধ্যে ৩১টি পিয়ার বসানো শেষ হয়েছে। বাকী ১৯টি পিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে ডাব্লিউডি-১ প্যাকেজের ৭৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ডাব্লিউডি-২ প্যাকেজের ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ৭ হাজার ৩৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শ্রমিক কাজ করছে। এর মধ্যে কনসালটেন্ট রয়েছেন ১২০ জন। ডাব্লিউডি-১ প্যাকেজে ৮৫০ জন স্টাফ ও ২ হাজার ২০০ জন শ্রমিক এবং ডাব্লিউডি-২ প্যাকেজে ১ হাজার  ৮৫০ জন স্টাফ এবং ২ হাজার ৩৪০ জন শ্রমিক কাজ করছে।  

তিনি বলেন, প্রতিটি স্প্যানের ওপর জাপানিদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রেললাইন বসানো হচ্ছে। ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। নির্ধারিত সময়েই এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতিসীমা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হওয়ায় সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়। বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা একটি রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নির্মাণের পর সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৮৮টি ট্রেন চলাচল করবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৬ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৪:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit