মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তুরস্কের কাছে ট্রাম্পের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির তীব্র বিরোধিতা নেতানিয়াহুর ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, সম্পর্ককে বললেন ‘চমৎকার’ বড়কুঠি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী কেইনের ৬ মিনিটের ঝড়ে শেষ ষোলর টিকিট কাটল ইংল্যান্ড মেসির শেষ নৃত্য, নাকি সালাহর নতুন ইতিহাস তারেক রহমানকে ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ মেসির সঙ্গে সোফির সম্পর্কের গুঞ্জন মালাক্কা প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিয়ে আহমাদিনেজাদের চমক নওগাঁয় হামড়ার বিল-কৃষ্ণপুর খাল পাড়ে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি ধলু

দেশেই চাষ হচ্ছে পুষ্টিকর ফল অ্যাভোকাডো

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩ জুলাই, ২০২৩
  • ২১২ Time View

ডেস্ক নিউজ : ফলের নাম অ্যাভোকাডো। বলা হয় এ ফল পৃথিবীর মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার একটি বড় উপহার। কারণ এর মধ্যে রয়েছে মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও মিনারেল।

পৃথিবীর অন্যতম এ পুষ্টিকর ফল এখন বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক আকার ধারণ করবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে অ্যাভোকাডোর চারা সম্প্রসারণের কাজ চলমান। একসময় সারাদেশে এ ফলের চারা বিস্তার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন উদ্যানতত্ত্ববিদরা।

২০১৯ সালে মাদারীপুরে মস্তফাপুর হর্টিকালচার সেন্টারে তিনটি গাছ রোপন করলেও এখন রয়েছে দুটি অ্যাভোক্যাডো গাছ। এই দুটি গাছে দুই শতাধিক ফল এসেছে। গাছগুলো ছোট আকারের। ফলগুলো অনেকটা পেয়ারার মতো, একসাথে কয়েকটি ধরে রয়েছে, যা গাঢ় সবুজ বর্ণের।এর মধ্যে বড় একটি গাছে দুই বছর থেকে ফল ধরছে। এবার বিশেষ যত্নের কারণে এ গাছে পরিপক্ব ফল পাওয়া যাবে। একেকটা অ্যাভোক্যাডোর ওজন প্রায় ৪০০ থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি বাজারে বিদেশ থেকে এনে এ ফল বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। সেগুলো পুষ্টিগুণের কারণে উচ্চবিত্তদের কাছে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

 

এ ফলের ভেতরে বেশ বড় ডিম্বাকার বীজ থাকে। আহার্য্য অংশ মাখনের মতো মসৃণ, হালকা মিষ্টি স্বাদের। পেঁপের মতো কাঁচা-পাকা ফল, সবজি, ভর্তা, সালাদ, শরবতসহ বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। টোস্টে মাখনের পরিবর্তে অ্যাভোক্যাডো ক্রিম দিয়ে খাওয়া, সালাদে, স্যান্ডুইচে মেয়নেজের পরিবর্তে অ্যাভোকাডোর ক্রিম দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে এই ফল। পাশাপাশি এটি শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য উৎকৃষ্ট মানের খাবার। শিশুদের অপুষ্টি রোধ সহায়তা করে। যকৃৎকে সুরক্ষা দেয়। জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে গর্ভপাত রোধ করে এবং স্বাভাবিক গর্ভধারণে সহায়ক হয়।

এছাড়া সবার জন্য মানসিক চাপ, হতাশা দূরীকরণ, ক্ষুধা বৃদ্ধি, সুনিদ্রা নিশ্চিত করা এবং দেহের ক্ষতিকর দ্রব্যাদি প্রস্রাব ও মল আকারে বের করে দেহকে সুস্থ রাখতে এ ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পৃথিবীর অন্যতম এ পুষ্টিকর ফলটি দেশেই কয়েক বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আকার ধারণ করবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে অ্যাভোক্যাডোর চারা সম্প্রসারণের কাজ চলমান। একসময় সারাদেশে এ ফলের চারা বিস্তার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন উদ্যানতত্ত্ববিদরা।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ ড. রুস্তম আলী একুশে টেলিভিশন আনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া এই ফলটির উৎপাদনে এতটাই উপযোগি যে, আমের চেয়ে ফলন বেশি হবে অ্যাভোকাডো’র। কৃষকরা এটি চাষের মাধ্যমে সহজেই মুনাফা অর্জন করতে পারবে।

 

এটি উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব বলেও মনে করেন এই কৃষিবিদ।

 

মস্তফাপুর হার্টিকালচারের কর্মকর্তা লতিফ গণমাধ্যমে জানান, মাদারীপুরের জন্য এই ফল একটি গর্বের বিষয়, সব হর্টিকালচারে এই ফলগাছের চারা রোপন করা হচ্ছে। কিন্ত মস্তফাপুর হর্টিকালচারে প্রথম ফল ধরেছে। তাছাড়া এই ফল থেকে আরো চারা তৈরি করে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মস্তফাপুর হার্টিকালচারের উপ-পরিচালক এস এম সালাহউদ্দিন জানান, সাধারণত কলমের চারায় পাঁচ বছর পর ও বীজের চারায় আট বছর পর ফল ধরে। কিন্ত আমাদের হর্টিকালচারে ২-৩ বছরেই ফল ধরেছে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দামি ফল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফল। যেভাবে দেশে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে, তাতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফল এটি। আগামী দশ-বিশ বছর পর এ ফল দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হবে।

 

তিনি আরো জানান, এ হর্টিকালচার সেন্টারে অ্যাভোকাডোর গাছ দেওয়া হয়েছে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’ থেকে। এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ড. মেহেদী মাসুদ। অ্যাভোক্যাডোর চারা ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৩ জুলাই ২০২৩,/বিকাল ৩:১৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit