শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার প্রবেশ দ্বার চৌগাছা থেকে বিগত পঞ্চাশ বছেরও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করেননি বড় দল গুলো 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
  • Update Time : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৭৪ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : স্বাধীনতার প্রবেশ দ্বার চৌগাছা। দেশ স্বাধীনের পর বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ১১ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চৌগাছা উপজেলা থেকে কোন প্রার্থী করেননি বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো। চৌগাছাবাসী এমন দূর্ভাগা যে, সংসদীয় আসনের বাইরে থেকে প্রার্থী নিয়ে আসলেও চৌগাছা উপজেলার কোন রাজনৈতিক নেতার ভাগ্যের ছিঁকে ছেড়েনি।এক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পর প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালে। তখন বৃহত্তর যশোরের এ আসন ছিল জাতীয় সংসদের-৮৩ তম আসন এবং যশোর- ৬। ১৯৭৩ সালের সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হন তৎকালীন আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেতা আবুল ইসলাম।এরপর ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে সময় বৃহত্তর যশোরের এ আসন ছিল জাতীয় সংসদের-৮৭ তম আসন এবং যশোরের ছিল-৬ নং আসন। সে নির্বাচনে যশোর শহর থেকে অ্যাডভোকেট বদরুল আলাকে ধার করে নিয়ে এসে প্রার্থী করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনিপ ) এবং বদরুল আলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এরপর তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। এ সময় জাতীয় সংসদে এ আসনের অবস্থান হয় ৮৬ এবং যশোর-২, সীমানা হয় ঝিকরগাছা উপজেলার ১১টি ও চৌগাছা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন অর্থাৎ ২২ টি ইউনিয়ন নিয়ে হয় এ আসন। এখন পর্যন্ত এ অবস্থান টিক আছে। এ নির্বাচনে নির্বাচিত হয় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ঝিকরগাছা উপজেলার মকবুল হোসেন।

পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ঝিকরগাছা উপজেলার মীর শাহাদাতুর রহমান। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার অ্যাডভোকেট কাজী মিনরুল হুদা নির্বাচিত হন। একই বছর অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আবারো নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তথা চারদলীয় জোট থেকে নির্বাচিত হন ঝিকরগাছা উপজেলার মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচেন আওয়ামীলীগ মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত ঝিকরগাছা উপজেলার মেজর জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দিন নির্বাচিত হন।

সবেচয় আশ্চর্য্য বিষয় হলো নির্বাচিত প্রার্থীদের যারা নিকটতম প্রতিদ্বিন্দ্ব প্রার্থী ছিলেন তাদের সবার বাড়িও ঝিকরগাছা উপজেলায়। অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে ১১ টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তার কোনটিতেই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল কেউই চৌগাছা উপজেলা থেকে প্রার্থী দেইনি। বলা চলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট চৌগাছা উপজেলার কোন কানাকড়ি মুল্য নেই। সেকারনে এক দুই বছর নয় দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে চৌগাছাবাসী। অথচ দেশ স্বাধীনের পূর্বে পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরে চৌগাছা উপজেলার তিন তিনজন কৃতি সন্তান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারা হলেন উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের খান বাহাদুর আব্দুল আজিজ, চৌগাছা শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ইছাপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মোবারক আলী এবং সিংহঝুলি গ্রামের শহীদ মসিয়ূর রহমান। এদের মধ্যে শহীদ মসিয়ূর রহমান ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে এম এল এ নির্বাচিত হয়ে প্রাদেশিক সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। রাজনীতিত সমৃদ্ধ এমন একটা উপজেলার মানুষকে কিভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দুরে রাখা যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ চৌগাছা উপজেলা।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলার বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সিংহঝুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সামছুল আরিফ শান্তি মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সব বড় রাজনৈতক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চৌগাছা বাসীর সাথে বিমাতাসুলভ আচারণ করেছেন। সেকারণে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেও চৌগাছা থেকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী করেনি বড় রাজনৈতিক দলগুলো। একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্বাধীনতার পর যার হাত ধরেই চৌগাছায় আওয়ামীলীগের ভীত মজবুত হয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযুদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, চৌগাছা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

এদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জহুরুল ইসলাম বলেন, সংসদ নির্বাচনে চৌগাছা থেকে প্রার্থী দিতে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মন গলাতে পারিনি। দেখি আগামী নির্বাচনে কেন্দ্রের সুদৃষ্টি চৌগাছাবাসীর উপর পড়ে কিনা। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরেশদ বলেন, ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে চৌগাছা উপজেলায় কিছু ভোট কম থাকার কারণে চৌগাছা উপজেলা থেকে প্রার্থী দিতে চাইনা কেন্দ্র। চৌগাছা প্রেসক্লাবের সভাপিত অধ্যক্ষ আবু জাফর বলেন, আসলে সংসদ নির্বাচনে চৌগাছা থেকে প্রার্থী না করা আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটা ইগোতে পরিনত হয়েছে। এ অবস্থার নিরসন হওয়া দরকার। প্রেসক্লাবের সাধারণ স¤পাদক জিয়াউর রহমান রিন্টু বলেন, খুবই খারাপ লাগে যখন শুনি চৌগাছা থেকে এবারও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেনা, তবে শুনতে শুনতে আমি একরকম অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, না চৌগাছা থেকে প্রার্থী হচ্ছে না।

চৌগাছার শিক্ষক ,সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ,ব্যবসায়ী ও পেশাজীবিরা সকলের একই কথা অর্ধশত বছর পার হয়ে গেছে অথচ একটি বারের জন্যও চৌগাছা থেকে কেউ এমপি নির্বাচিত হলো না এটা মানতে খুব কষ্ট লাগে । তাই চৌগাছার গণমানুষের দাবী আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চৌগাছা থেকে যেন বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়।

কিউএনবি/অনিমা/২৯ এপ্রিল ২০২৩,/দুপুর ১:৪১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit