শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারণে নতুন ব্যবস্থা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১২৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারণ হবে ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে। ট্রেজারি বিলের সুদহারের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করা যাবে। এখন ৬ মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ৬ দশমিক ৯৯। ফলে এখনকার হিসাবে ঋণের সুদ হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে ব্যাংকঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার কত হবে, বাংলাদেশ ব্যাংক তা প্রতি মাসে নির্ধারণ করে ঘোষণা করবে। এ হার ঠিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নির্ধারিত সূত্র অনুসরণ করবে। নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে আগামী জুলাই মাস থেকে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শর্টটার্ম মান্থলি এভারেজ রেট’ বা স্মার্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও  ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেনের নেতৃত্বে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা ব্যাংকার্স সভায় যোগ দেন।

ব্যাংকার্স সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ঋণের সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের অন্যতম হলো সুদহার নির্দিষ্ট করে না রেখে করিডর প্রথা চালু করে তা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ৬ মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদের হারের সঙ্গে ৩ শতাংশ যুক্ত করে যে সুদ হয়, তা নিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

সভায় জানানো হয়, প্রতি মাসে ট্রেজারি বিলের একাধিকবার নিলাম হয়। ফলে এর সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে একটা গড় হার নির্ধারণ করা হবে। যদি ট্রেজারি বিলের সুদহার কমে যায়, তবে অতিরিক্ত হার বাড়িয়ে সুদের হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে গড় সুদহার কত হবে, তা নির্ধারণ করে জানিয়ে দেবে। পাশাপাশি ছয় মাস মেয়াদি গড় সুদহারও জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী জুনে যে মুদ্রানীতি দেওয়া হবে, তাতে এ নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা থাকবে। এটি কার্যকর হবে জুলাই থেকে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগে যে পণ্য আনতে সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছিল, এখন সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দিয়েই এসব পণ্যের ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে। আমদানি পণ্যের মূল্য পরীক্ষা করায় ডলার খরচ কমে আসছে। বেশি ডলার খরচ করে পণ্য আনা কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণপত্রের মূল্য যাচাই করে অনুমোদন দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণপত্রের মূল্য আগের চেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই করছে। অপ্রয়োজনীয় আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে না।

ফলে ঋণপত্র খোলা কমে গেছে। এখন যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, তার সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে কিনা, তা তদারকি শুরু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এতে রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার কমে আসবে। ফলে প্রবাসী আয়ে যে হুন্ডি প্রথা আছে, তা-ও কমে আসবে। সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, হুন্ডির চাহিদা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এতেই অতিরিক্ত ডলার খরচ কমে আসবে। পাশাপাশি সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কাজ হচ্ছে, যা আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit