শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

১০০ টাকা ছাড়িয়েছে বেশ কিছু সবজির দাম

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩
  • ৮৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর বাজারে হঠাৎ বেড়েছে সবজির দাম। জ্বালানি, সার ও বীজের দাম বাড়ায় সবজির উৎপাদন ও পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে প্রায় সব সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যদিও এ সময়ে শীতকালীন সবজির শেষ সময় হওয়ায় দাম কম থাকার কথা। গ্রামের হাটবাজারে পাইকারিতে এসব সবজির দাম কম থাকলেও শহরে কয়েকগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু সবজি নয়, ডিম, মাছ ও সব ধরনের মাংসের দামও বেড়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে খাদ্য-চাহিদা মেটাতে আরও বেশি চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

অতিরিক্ত দাম বাড়ায় সবজি কিনতেও হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। দুই সপ্তাহ ধরে লতি ও করলা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ টাকার বেশিতে। দেশে উৎপাদিত এ দুটি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও এর মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানেন না কেউ। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এ দুই সবজি। শুধু লতি ও করলাই নয়, শিম, টমেটো, বেগুনের মতো সবজিও এখন হিসাব করে কিনতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৮০ টাকা দিয়ে। সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় আলুই এখন ভরসা।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেট, হাতিরপুল, কাঁঠালবাগান ও মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজিই বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। একটু ভালো মানের টমেটো ও গাজর কেজিপ্রতি ৪০-৪৫ টাকা। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। কপি (ফুল বা বাঁধা) ৩৫-৪০, কাঁচকলা হালি ৩৫-৪০, মান বিবেচনায় কাঁচা মরিচ ও করলা ১২০-১৪০ টাকা এবং ৩৫ টাকার পেঁয়াজের কেজি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।

রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শামসুল আলম। তিনি কারওয়ান বাজারে এসেছেন বাজার করতে। অনেক ঘোরাঘুরির পর শিম, লাউ ও টমেটো কিনেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব সবজির দাম দিন দিন বাড়ছে। সবজি কিনতে এসেও চিন্তা করতে হচ্ছে। কম দামে শিম, লাউ কিনেছি। অল্প বেতনে চাকরি করি। লতি ও করলা কেনার চিন্তাও করতে পারি না।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তির দিকে। টাটকা কোনো সবজি পাইকারি কিনতে হলেও ৩০-৩৫ টাকা কেজির নিচে পাওয়া যায় না। বেশি দাম পড়ায় দুই-তিন দিন আগের সবজি কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বেশি দাম।

হাতিরপুল বাজারের শামীম নামে এক সবজি বিক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে সবকিছুর দাম যেন আরও বেশি বাড়ছে। যে দাম দিয়ে কিনতে হয় তার বিবেচনা করলে নতুন কোনো সবজি ৪০ টাকার নিচে বেচা যায় না।’

শুধু সবজির বাজারই নয়, দাম বেশি থাকায় কেজিতে মাছ, মাংস কেনা কমিয়েছেন ক্রেতারা। ভাগে মাছ কিনছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। বাজারে সর্বনিম্ন ১৮০ টাকায় এক কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি (বড়) রুই মাছ ৩২০-৩৮০, টেংরা মাছ ৫০০-৫৫০, দেশি (ছোট) ফলি ৪৫০-৫০০, মাঝারি আকারের চিংড়ি ৬২০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ফার্মগেট বাজারে সানাউল্লাহ নামে এক ক্রেতাকে রুই মাছের ভাগা কিনতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়েছে। যে পরিমাণে ব্যয় বেড়েছে সে পরিমাণে আয় বাড়েনি। আগে কিনতাম এক-দুই কেজি করে মাছ। এখন ভাগে কিনতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে সংসার চালাতে গেলে মাছের ভাগা কেনা ছাড়া উপায় দেখছি না।’

ডিম ও মাংসের বাজারেও একই অবস্থা। প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ ও খুচরায় এক হালি ডিম ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পোলট্রি মুরগি ২৪০-২৪৫, দেশি মুরগি ৬০০, কক মুরগি ৩৫০-৩৬০ ও গরুর মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।

সবজির বাজারের মতো মুদি পণ্যেরও একই অবস্থা। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৫, বিআর আটাশ ৫০-৫৫, চিনি ১২৫-১৩০, প্যাকেট আটা দুই কেজি ১৩৫, মসুর ডাল দেশি ১৪০, ছোলা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি বাসার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোজ্য তেল ছাড়া কোনো পণ্যের স্বস্তির খবর নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে আমাদের বেচা-বিক্রিও কমেছে কয়েকগুণ।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ মার্চ ২০২৩,/দুপুর ১:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit