সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েদের ভরাডুবির নেপথ্যে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ১২৯ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রায় প্রতি আসরের মতো এ আসরেও ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবারের আসরের ব্যর্থতার নেপথ্য কারণ খুঁজতে গেলে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে।

ব্যাটারদের ব্যর্থতা

বলা হয়ে থাকে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাটারদের চেয়ে ম্যাচ জেতানোয় বেশি ভূমিকা থাকে বোলারদের হাতে। এ আসরে বাংলাদেশের বোলিং আশাব্যঞ্জকই ছিল। ১৮ বছর বয়সী পেসার মারুফা আক্তার চমক দেখিয়েছেন বেশ কয়েকটি উপলক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে টানা দুই বলে দুই উইকেটসহ তিনি নেন ৩ উইকেট। পরে অবশ্য আর একটি উইকেটই নিতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু কাটার-স্লোয়ারে প্রায় ম্যাচেই কার্যকরী বোলিং করেছেন তিনি। মারুফার মতো স্পিন ডিপার্টমেন্ট অবশ্য খুব বেশি আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতা চোখে পড়েছে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে। এক নিগার সুলতানা বাদে কেউই উইকেটে ঝলক দেখাতে পারেননি। অবশ্য সেই জ্যোতির ব্যাট থেকে ৪ ম্যাচে আসে মাত্র ১২৩ রান। বাকিদের মধ্যে কেউই সত্তরের বৈতরনিও পার হতে পারেননি। এটা থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল ঘাটতি কোথায় ছিল।

পারফর্মারদের অনুপস্থিতি

সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলতে হয়, বাংলাদেশ দলে পারফর্মারদের উপস্থিতি ছিল না। টপঅর্ডারের ব্যাটারদের মধ্যে জ্যোতি ৯৩.১৮, সোবহানা মোস্তারি ৭৬.১৩, স্বর্ণা আক্তার ৮৯.৩৯, শামিমা সুলতানা ১০৪.৫৪ ও মুর্শিদা খাতুন ৬৯.৮১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেন। বলা বাহুল্য, এগুলোর একটিও ঠিক টি-টোয়েন্টিসুলভ নয়। যে কারণে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ খুব বেশি বড় হয়নি। ৪ ম্যাচের মধ্যে লঙ্কানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেছিল টাইগ্রেসরা। বাকি তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১০৭, ১১৮ ও ১১৩ রান করে তারা। এমন স্কোর নিয়ে যে ভালো দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জেতা যায় না, তা অনুমেয়ই! অথচ আগে থেকেই পারফর্মার খুঁজে পেলে এমন দশা দেখতে হতো না ক্রিকেটপ্রেমীদের।

বাজে ফিল্ডিং

যেকোনো ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিনটি সেক্টরে ভালো করাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বাজে ব্যাটিং করেছে, মারুফা আক্তারের কথা বাদ দিলে বাকি বোলাররাও কোনো না কোনোভাবে ‘বাজে’র কাতারে পড়ে যান। এমন অবস্থায় যদি কোনো দল ফিল্ডিংও বাজে করে, তবে সেই ম্যাচে জেতা তো অলীক কল্পনাই। একটি রানের হিসাবও কখনো কখনো জয়ের পাল্লা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেখানে বাংলাদেশ বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে অনেক রান হজম করেছে। উইকেটরক্ষক শামিমা সুলতানার বাজে কিপিংয়ের কারণেও মাশুল দিতে হয়েছে টাইগ্রেসদের। তার শিশুসুলভ ভুলে কখনো পায়ের নিচ দিয়ে চার হয়েছে, কখনো উইকেট তুলে নেয়ার সুযোগ হারিয়েছে জ্যোতি বাহিনী।

ধারাবাহিকতার অভাব

প্রায় প্রতি ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি মেয়েরা। যেমন: লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ৭১ রান করেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে ৫৫ রান তুলতে হারায় ৫ উইকেট। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচেও একই হাল ছিল জ্যোতিদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৮৬ রান থেকে ১০৭ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০ রানে ৪ উইকেট থেকে ১১৮ রানে আটকে যায় মেয়েদের ইনিংস। চতুর্থ ম্যাচেও ৪ উইকেটে ৮০ রান তুলেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানে থেমে যায় ইনিংস।

কিউএনবি/আয়শা/২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/রাত ১০:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit