ডেস্ক নিউজ : পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উদযাপন না করে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ রবিবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়’ শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদ।
পরিষদের সভাপতি মিজান বাশারের সভাপতিত্বে ও শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, পরিবেশবিদ দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোস্তফা কামাল, বক্তব্য দেন লেখক ও পরিবেশ সাংবাদিক ইরানি বিশ্বাস, খুলনা পোল্ট্রি ফিড ফিশের এস এম সোহরাব, সভাপতি কিশোরগঞ্জ পোল্ট্রি ডিলার শরীফ উদ্দিন, পোল্ট্রি মার্কেট দাউদকান্দি ফিরোজ খান, নরসিংদী পোল্ট্রি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের সবুজ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের ২২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে আর আপনি ছয় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ১০ লাখ মানুষের জনসমাবেশ করছেন এমন একটা সময়ে, যখন দেশের দুই কোটি পরিবার ঈদ করতে পারবে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বন্যা। তাতে আরো ৫০ লাখ মানুষ কঠিন সময় পার করছে।
দেশি পোল্ট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রয়োজন
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নীতিমালা না হলে সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে শিক্ষিত যুবসমাজকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছর। আজকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পুষ্টি। যেটি জোগাড় করেছেন প্রান্তিক চাষিরা ও খামারিরা। এখানে বড়দের কোনো অবদান নেই।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি এত বড় কাজ করতে যাবেন না। এখন একটু দেশের দিকে নজর দিন। চাষি, খামারি ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি নজর দিন। এরা আপনাকে বাঁচাবে। তা না হলে তাদের মতো আপনাকেও ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট ভোগ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রান্তিক এসব খামারিকে বাঁচাতে আমাদের একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা এই দেশটাকে বড় পুঁজিবাদীদের হাতে তুলে দেব নাকি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হাতে দেব।
তিনি বলেন, দেশের বড় পুঁজিবাদীরা ছোটদের খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে, কিন্তু তারা জানে না, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বড় ও ছোট একসঙ্গে বসবাস উপযোগী করে রেখেছেন। এর বাইরে গেলে ধ্বংস নেমে আসে। সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি সব কিছু সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি এক খবরে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকা এসব প্রান্তিক মানুষের ঘামে ভেজা কষ্টের টাকা। অথচ আমাদের সরকার বলেছে, এই টাকার ৭ শতাংশ সরকারকে দিলে বৈধ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের মহাসচিব কাজী মোস্তাফা কামাল অনুষ্ঠানে আট দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো-
১. কোনো হ্যাচারির মালিক বাণিজ্যিকভাবে রেডি ব্রয়লার মুরগি ও লেয়ার মুরগি পালন করতে পারবে না। তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. খাদ্যের দাম কমাতে হবে। খাদ্য ও বাচ্চার মান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে।
৩. খামারিদের বিদ্যুৎ বিল শিল্প হারে নিতে হবে।
৪. বিগত ২০১০ সালের ৭ মার্চ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এক দিনের ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ ও ৩২ টাকা হারে দিতে হবে।
৫. রানীখেত, গাম্বরো ও বার্ডফ্লু এ জাতীয় জটিল রোগের টিকা ও ওষুধ বিনা মূল্যে খামারিদের দিতে হবে।
৬. সব খামারিকে একটি সমিতির আওতায় এনে জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. প্রাকৃতিক দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ভর্তুকি দিতে হবে। অথবা ইনস্যুরেন্সের আওতাভুক্ত করে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।
৮. সব উপজেলার প্রধান বা বড় বাজারগুলোতে খামারিদেরকে সমিতির অনুকূলে দুই-তিন শতক জায়গায় মুরগি ও ডিম বিক্রির দোকান নির্মাণ করে দিতে
হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৯.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৩৮