ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের ১২ দশমিক ৭ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা দান কেন্দ্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন। এর বাইরে ৪২ দশমিক ৭ ভাগ আক্রান্ত কর্মক্ষেত্রে, ৪৯ দশমিক ৭ ভাগ রেস্তোরায়, ৮ দশমিক ২ ভাগ স্কুলে, ৩৯ ভাগ বাড়িতে এবং ৪৪ ভাগ গণপরিবহণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারী ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী ‘তামাক মুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে এই তথ্য তুলে ধরেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী অধ্যাপক রুহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার এমপি বলেন, সামনে বাজেট সেশন আসছে, সেখানে আমাদের অন্তত ১ মিনিট হলেও তামাকের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। তামাকের বিরুদ্ধে যেসব কমিটমেন্টগুলো করছি, সেগুলোকে আরও দৃঢ় করতে হবে। এখানে আজ যে ৪০ জন এমপি আছেন, তাদের কেউ বলেন নাই ধূমপান ভালো, তামাক ভালো। এগুলো আমাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারব।’
এ সময় অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর কীভাবে সেটা বাস্তবায়ন করা যায়, আমাদের তা খুঁজে বের করতে হবে। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে গ্রামে গ্রামে গিয়ে তামাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করেছি। আমরা সবাই আছি তামাক বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে। তাই আমি আশা করবো আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই সাধনাকে শক্তিশালী করবে। আজ থেকে আমাদের শ্লোগান হোক যে, আমরা তামাক মুক্ত হতে চাই। সম্মেলেনের দ্বিতীয় দিনে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় সেশনে সভাপতিত্ব করেন সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ এমপি। আলোচক হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান এমপি, শেরিন আক্তার এমপি, শিরীন আখতার এমপিসহ প্রায় ৩৫ জন সংসদ সদস্য।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে প্রথম সেশনে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। তার উপস্থাপনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঙ্গে বিভিন্ন অসঙ্গতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। যেখানে তামাক কোম্পানির কৌশলী বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ ও তামাক করের জটিল বিষয়গুলো উঠে আসে।
অধ্যাপক আব্দুল আজিজ তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘হিটেড ট্যোবাকোর পক্ষে ফেসবুসহ বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় ই-সিগারেটের প্রচার ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনলাইন মার্কেটে অর্ডার দিলে এখন এসব পণ্যে ঘরে এসে দিয়ে যায়। কিন্তু ই-সিগারেট যে তামাকের সিগারেটের মতো ক্ষতি করে, তা অনেকেই জানে না। কিন্তু এটাই সত্যি যে, এটি সমান ভাবে ক্ষতি করে। আমার মনে হয় এখনই সময় ই-সিগারেটকে নিয়ন্ত্রণ করে আইনের অধীনে নিয়ে আসার। কারণ এখন থেকেই যদি এটাকে কার্যকর ভাবে বন্ধ করা না হয়, তাহলে আগামীর প্রজন্মকে তামাকের ব্যবহার থেকে বের করে নিয়ে আসা কঠিন হবে।
কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যদের এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। তামাক নির্মূলে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি। আপনারা আমাকে আপনাদের পরামর্শ দেবেন। যদি আমার দিক থেকে আরও কিছু করতে হয়,আমি করবো। এটা সত্যি যে তামাকের ব্যবহার এখনও আমরা যথেষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আইনেও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সেগুলো দূর করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা যেতে পারে।
কিউএনবি/আয়শা/১৯.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৫১