রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তিন দিনেই ৩৮৪ কোটি, এবার হংকংয়ে ‘রামায়ণ’ ‘অনেক ডিসেম্বর আসবে-যাবে, আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না’ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৩৩৩ নতুন বছরে বই-ড্রেস-জুতা-ব্যাগ পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয় কাজের মাধ্যমে: আইনমন্ত্রী নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ড. তিতুমীর ১৭ বিলিয়ন ডলার খরচে ডাটা সেন্টার নির্মাণ করছে গুগল নওগাঁ সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি তাহের, সম্পাদক বাবুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন নেতাদের সাক্ষাৎ

ভোট চুরির পর এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও এক চুরির অভিযোগ রাহুল গান্ধীর

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসার পর এবার ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের গাড়ি থেকে ‘পেট্রল চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। 

এক্সে হিন্দিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ই২০ হয়ে গেছে ৪২০—জনগণের গাড়ি থেকে পেট্রল চুরি!’ ভারতের সাবেক দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অপরাধের কথা উল্লেখ ছিল।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইথানল মেশানোর বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন তিনি।

ই২০ পেট্রল হলো এমন জ্বালানি, যাতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। ইথানল মূলত আখ থেকে উৎপাদিত হয়। অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বলে ভারত কয়েক দশক ধরেই জৈব জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জৈব জ্বালানি কর্মসূচি জোরদার করেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পেট্রলে ইথানল মেশানোর হার দেড় শতাংশেরও কম ছিল, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তবে ই২০ পেট্রল নিয়ে অনেক গাড়িচালকের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কম ইথানলযুক্ত জ্বালানির জন্য তৈরি গাড়ির ইঞ্জিনে এই মিশ্রণ ক্ষতি করতে পারে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়াতে পারে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘কর্ণাটক সরকার সাতটি জেলা থেকে পেট্রলের নমুনা সংগ্রহ করে একটি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করিয়েছে। ফলাফল দেখুন—১৪টি নমুনার মধ্যে ১১টিতে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল পাওয়া গেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনে (আইওসিএল) ৩১ দশমিক ২ শতাংশ, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামে (এইচপিসিএল) ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। আইওসিএল, এইচপিসিএল, বিপিসিএল, নায়ারা, শেল—সরকারি হোক বা বেসরকারি, সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়েছে।’

কোম্পানিগুলোর নিজস্ব পরীক্ষাগারে ইথানলের পরিমাণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর দাবি, অতিরিক্ত ইথানল মেশালে গাড়ির কার্যক্ষমতা কমতে পারে, মাইলেজ কমে যেতে পারে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়তে পারে। পেট্রল পাম্পে জ্বালানিতে কত শতাংশ ইথানল রয়েছে, তা উল্লেখ করে কোনো লেবেল না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে ভারত সরকার স্বীকার করেছে, ই২০ পেট্রল ব্যবহারে জ্বালানির দক্ষতা ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে সরকার। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মোদিজি, আমাদের বলুন—দেশের ট্যাংকে কী ঢালা হচ্ছে? পেট্রলে আসলে কতটা ইথানল রয়েছে? ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে?’

কর্ণাটকের অভিযোগ ও পরীক্ষার ফল

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের এক দিন আগে কর্ণাটক সরকার অভিযোগ করে, বড় তেল বিপণন কোম্পানিগুলো নির্ধারিত ২০ শতাংশ সীমার বেশি ইথানলযুক্ত পেট্রল সরবরাহ করছে। পরীক্ষায় ইথানলের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ২ শতাংশ পাওয়া গেছে বলে দাবি করে রাজ্য সরকার। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কর্ণাটকের খাদ্য, সরবরাহ, ভোক্তা বিষয়ক ও আইন পরিমাপবিষয়ক মন্ত্রী রিজওয়ান আরশাদ বলেন, বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুর, বেঙ্গালুরু গ্রামীণ, রামনগর, মাঙ্গালুরু ও তুমাকুরু থেকে সংগ্রহ করা নমুনার পরীক্ষার ভিত্তিতে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

বেঙ্গালুরুর শ্রী রাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) নমুনায় ৩১ দশমিক ২ শতাংশ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেডের (এইচপিসিএল) নমুনায় ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ ইথানল পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজের স্বীকৃত এবং আইএসও সনদপ্রাপ্ত।

রাজ্য সরকারের দাবি, বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ২০ শতাংশের বেশি ইথানল পাওয়া গেছে।

তেল কোম্পানিগুলোর পাল্টা দাবি

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানি আইওসিএল, ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসিএল) ও এইচপিসিএল কর্ণাটক সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কোম্পানিগুলো।

তাদের দাবি, কর্ণাটকসহ তাদের খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা ই২০ পেট্রল ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের আইএস ১৭০২১ মানদণ্ড মেনে চলে। ওই মানদণ্ডে ইথানলের পরিমাণ ১৯ থেকে ২১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে কোম্পানিগুলো বলেছে, কর্ণাটক সরকারের উল্লেখ করা পরীক্ষার ফল নির্ধারিত আইনগত ও কারিগরি পদ্ধতি অনুসরণ করে করা পরীক্ষার মাধ্যমে সমর্থিত নয়। তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষাগারের সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, এসব সনদে পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, ফলে স্বাধীনভাবে ইথানলের উল্লেখিত মাত্রা যাচাই করা সম্ভব নয়।

তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর উদ্ধৃত পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালের ইথানল সরবরাহ বছর থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি রুপির বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৩১৬ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের বিকল্প তৈরি হয়েছে, কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৯৫২ লাখ মেট্রিক টন কমেছে এবং কৃষকদের ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৭ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit