স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে কারও আছে শিরোপার ইতিহাস, কারও জন্য পুরোনো গৌরব ফেরানোর অপেক্ষা। কেউ খেলবে ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রত্যাশা নিয়ে, কেউ চাইবে নিজেদের সামর্থ্য নতুন করে প্রমাণ করতে। আজ ঢাকায় শুরু হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাই লড়াইটা শুধু একটি ট্রফির নয়, ছয়টি দলের ছয় রকম গল্পেরও।
২০০৩ সালে ঢাকাতেই একমাত্র পুরুষ সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা। ২০২৩ সালের আসরে সেমিফাইনালে ওঠার অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চাইবে দল। প্রাথমিক দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শামিত সোম ও জামাল ভূঁইয়ার মতো খেলোয়াড় থাকায় সমর্থকদের আগ্রহও বেড়েছে। তবে ঘরের মাঠে খেলা যেমন বাড়তি অনুপ্রেরণা, তেমনি প্রত্যাশার চাপও কম নয়।
মালদ্বীপ: ছোট দেশ, বড় অভিজ্ঞতা
আয়তনে ছোট হলেও সাফে মালদ্বীপকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছে তারা। এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের প্রমাণ করার অভিজ্ঞতা আছে দলটির। ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকায় সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান: হার দিয়ে শুরু
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে আজ টুর্নামেন্ট। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে এই ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরেও আগ্রহ ছিল এই লড়াইয়ে। মাঠের লড়াইটাও বেশ জমল। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে পাকিস্তান। থমার্ধেই তিন গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। সন্দেহ নেই চাপে তারা। এ অবস্থায় এবার মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আগামী ৮ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচটি। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।
শ্রীলঙ্কা: পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি
১৯৯৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেই সাফল্য এখন ইতিহাস, তবে দলটির সামনে নতুন করে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকায় দুই দলের ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠিত ফুটবল ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে শ্রীলঙ্কা হিসাব বদলে দিতে পারে।
একসময় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে পিছিয়ে থাকা দল হিসেবে পরিচিত ছিল ভুটান। এবার টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে তারা। স্বাগতিকদের জন্য ম্যাচটি শিরোপার পথে প্রথম পরীক্ষা, আর ভুটানের জন্য নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ।
ছয় দলের ইতিহাস আলাদা, প্রত্যাশাও আলাদা। বাংলাদেশের সামনে ঘরের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন, ভারতের সামনে আধিপত্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ; অন্য দলগুলোর সামনে নিজেদের অবস্থান বদলানোর সুযোগ।
সাফের আকর্ষণ এখানেই-কাগজে-কলমে হিসাব এক রকম হতে পারে, কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটে গল্প বদলে যেতে পারে। এবার ঢাকায় কোন দল সেই গল্প লিখবে, তার উত্তর মিলবে মাঠেই!
কিউএনবি/আয়শা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:১২