বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

গাজায় হাজারো অঙ্গহানি শিশুর চিকিৎসায় ইসরায়েলের বাধা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। একটি মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গচ্ছেদ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে।

‘ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর’ জানিয়েছে, ইসরায়েলের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে শত শত শিশু বিদেশে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ১৩৪টি শিশুর অঙ্গচ্ছেদ হয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক শিশুই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ জন অঙ্গচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশের চেয়েও কম স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ (প্রোস্থেটিকস) পেয়েছেন।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় মাত্র আটজন সনদপ্রাপ্ত প্রোস্থেটিকস ও অর্থোটিকস বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। জেনেভা-ভিত্তিক এই সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, সেগুলো শরীরে স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সামঞ্জস্য করার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত রাখা হলে, এই শিশুরা বর্তমানে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে তাদের আজীবনের বঞ্চনায় রূপ নিতে পারে।

সংস্থাটি চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলোর অভাব এবং শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথে কৃত্রিম অঙ্গগুলোকে তাদের শরীরের সাথে মানানসই করার সুযোগ না থাকায়, তাদের শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে এবং চলাফেরায় আরও বেশি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

৩৬ বছর বয়সী ফিদা আহমাদ আল-শাএর মানবাধিকার সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি কামানের গোলা তার ১১ বছর বয়সী ছেলের কাছাকাছি আঘাত হানলে সে পঙ্গু হয়ে যায় এবং একটি হাত হারায়। তার বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন, কিন্তু সীমান্ত পথগুলো বন্ধ থাকায় সে বাইরে যেতে পারছে না। সংস্থাটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে বলেছে, ‘পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কোনো জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জীবন পরিস্থিতি তৈরি করা, যা তাদের শারীরিক বিনাশ ডেকে আনে। এটি ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ বা গণহত্যা সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শিশুদের অঙ্গচ্ছেদ করা এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করা এই কর্মকাণ্ডগুলো সেই একই ধারার অংশ।

ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে ফিলিস্তিনিরা গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করতে পারছে না। সংস্থাটি আরও জানায়, গাজায় কাজ করার জন্য এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষায়িত দলগুলোর সেখানে প্রবেশের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

কিউএনবি/অনিমা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৫:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit