আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধের মধ্যেও আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ইরানের প্রতিনিধিদল ছোট হবে। এছাড়া প্রতিনিধিদলের সদস্যদের চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকবে এবং বিলাসবহুল পণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর সংঘাতটি যুদ্ধে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকাতেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
এর জবাবে তেহরান জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেনের উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে। ওই এলাকায় তেহরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবেশ ভিসা না দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। গত বছরও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একই সিদ্ধান্তের কারণে নিয়মিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি নেতা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
মাহমুদ আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। বিবৃতিতে এর কারণ হিসেবে তাদের ‘সংস্কার করতে ব্যর্থতা’, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসঙ্গতি এবং ‘শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন চলমান কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করা হয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ২:৪৫