আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের একটি বিমানবন্দরে পোষা কুকুর ও বিড়াল বহনকারী খাঁচা অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে ব্যাগেজ কার্টে তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে বিমানবন্দরের কর্মীদের কয়েকটি প্রাণীর খাঁচা কনভেয়ার বেল্ট থেকে তুলে কার্টের ওপর ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় প্রাণী পরিবহনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের নিংবো শহরের নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সম্প্রতি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট অবতরণের পর এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
একজন উদ্বিগ্ন যাত্রী পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিফলকযুক্ত নিরাপত্তা পোশাক পরা দুই কর্মী একটি কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে বিমান থেকে আসা পোষা প্রাণীর খাঁচা গ্রহণ করছেন। এরপর তারা একে একে খাঁচাগুলো ব্যাগেজ পরিবহনের কার্টে তুলতে থাকেন।
তবে খাঁচাগুলো সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরিবর্তে কয়েকটি খাঁচা কর্মীদের হাতে ছুড়ে দেওয়া বা জোরে কার্টের ওপর ফেলে দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। খাঁচাগুলো কার্টের প্ল্যাটফর্মে পড়ার সময় সেগুলো বেশ জোরে কেঁপে ওঠে। এরপরও কর্মীরা একইভাবে একের পর এক খাঁচা কার্টে তুলতে থাকেন।
ভিডিও ধারণকারী যাত্রী কর্মীদের এই আচরণকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেছেন। বিশেষ করে খাঁচার ভেতরে জীবন্ত কুকুর ও বিড়াল থাকায় এ ধরনের অসতর্ক আচরণ প্রাণীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনবিষয়ক নির্দেশনায় জীবন্ত প্রাণী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)–এর নির্দেশনা অনুযায়ী, জীবন্ত প্রাণী কেবল প্রশিক্ষিত ও উপযুক্ত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাণীর খাঁচা যাতে সরে না যায়, পড়ে না যায় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বিমান ভ্রমণের সময় কুকুর ও বিড়ালসহ প্রাণীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। যাত্রার সময় তাদের বমিভাব, বমি, অস্থিরতা এবং অন্যান্য অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ কারণে বিমানবন্দরে ওঠানামা ও স্থানান্তরের সময় প্রাণীদের সঙ্গে বাড়তি সতর্কতা ও যত্নশীল আচরণ প্রয়োজন।
আইএটিএ-এর নির্দেশনায় জীবন্ত প্রাণী পরিবহনের পুরো যাত্রাপথে তাদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রাণীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো এবং আঘাতের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
তবে নিংবো বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা ঘটনাটি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ঘটনার পর প্রাণীগুলোর কোনওটি আহতপ্রাপ্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণী পরিবহনে বিমানবন্দরকর্মীদের প্রশিক্ষণ, তদারকি এবং জীবন্ত প্রাণীর নিরাপদ হস্তান্তর নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস, এমএসএন
কিউএনবি/অনিমা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১২:৩৪