আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) উগ্র ডান ও বামপন্থী শক্তির ক্রমবর্ধমান চাপে পড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে সিডিইউ। সেখানে উগ্র ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে—১৯৪৫ সালের পর কোনো জাতীয়তাবাদী দলের জন্য যা সর্বোচ্চ ভোটের হার।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের সর্বশেষ জরিপে সিডিইউর সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৭ শতাংশে। ফলে রাজ্য পার্লামেন্টে আসন পেতে প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল হবে।
একই জরিপে ৩৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে এএফডি। তাদের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি), যার সমর্থন ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে এই রাজ্যে সরকার পরিচালনা করছে এসপিডি।
জাতীয় পর্যায়ে মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ছোট অংশীদার এসপিডি গত দুই বছরে একাধিক নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখতে চায়।
জরিপে ১০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে উগ্র বামপন্থী ডি লিংকে, যারা বর্তমানে রাজ্য সরকারে এসপিডির জোটসঙ্গী। ভোটের দিন এই চিত্র অপরিবর্তিত থাকলে এসপিডি, ডি লিংকে ও গ্রিনসের মধ্যে তিনদলীয় জোট গঠনের সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, এএফডির সঙ্গে জোটে যেতে মূলধারার কোনো দলই আগ্রহী নয়।
বর্ণবাদ ও নব্য-নাৎসি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এএফডিকে ঘিরে জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের অঘোষিত বর্জননীতি কার্যকর রয়েছে।
এদিকে বার্লিনেও মেয়র পদকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বর্তমানে সিডিইউ-এসপিডি জোট সরকার পরিচালনা করলেও নতুন জরিপে বামপন্থী ডি লিংকে ২৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। সিডিইউ পেয়েছে ২১ শতাংশ, এএফডি ১৭ শতাংশ, গ্রিনস ১৬ শতাংশ এবং এসপিডি ১০ শতাংশ সমর্থন।
এই ফলাফলে বার্লিনেও ডি লিংকে, গ্রিনস ও এসপিডির সম্ভাব্য বামপন্থী জোটের ইঙ্গিত মিলছে—যা মের্ৎসের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
ইতোমধ্যেই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় চাপে থাকা এই চ্যান্সেলরের জন্য মেকলেনবুর্গে উগ্র ডানপন্থীদের সম্ভাব্য জয় এবং বার্লিনে বামপন্থীদের উত্থান রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল করতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে মের্ৎসকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা তার নিজ দলেই জোরালো হচ্ছে। জোট সরকারের ভেতরে সংস্কার ইস্যুতে মতবিরোধ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ছেন।
কিউএনবি/অনিমা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১২:২০