সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণালংকার, রূপা ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মহাদেবপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের জিতেন বর্মনের ছেলে নব কুমার বর্মন (২৮) এবং পত্নীতলা উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের মেয়ে ও বিরশ চন্দ্র সরকারের স্ত্রী সুবর্ণা রানী সরকার (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর থানাধীন শ্যামপুর গ্রামের নব কুমার বর্মনের বসতবাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণা রানী সরকার বাদীর স্ত্রী। তাদের একটি ছেলে ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে সংসার করার সময় সুবর্ণার সঙ্গে নব কুমার বর্মনের গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাদীর অভিযোগ, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নব কুমার বর্মন ও সুবর্ণা রানী সরকারসহ অপরাপর আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে মহাদেবপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করেন।
এ সময় নব কুমার বর্মন বাদীর অসুস্থ ছেলে বাঁধন কুমারের গলায় চাকু ধরে রাখেন এবং অপর আসামি বাদীর মেয়ে পুঁজা সরকার ও পুত্রবধূ ঐশরীয়া সরকারকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাদীর বাড়িতে সংরক্ষিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণ, আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, সুবর্ণাকে দেওয়া প্রায় সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ, আনুমানিক ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, প্রায় ৭ ভরি রূপা, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা এবং নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ টাকার মোট আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর বাদী ও সাক্ষীরা সুবর্ণা রানী সরকারের খোঁজ করতে গিয়ে এজাহারভুক্ত অপর আসামিদের কাছে তার বিষয়ে জানতে চান। তখন তারা সুবর্ণা তাদের পরামর্শে নব কুমার বর্মনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সুবর্ণা রানী সরকার ঘটনার আগে বাদীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা যায়, গত ৬ আগস্ট নওগাঁ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনি স্বামী বিরশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করেন এবং ১৩ আগস্ট নব কুমার বর্মনের সঙ্গে বিবাহের ঘোষণা করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার দুই আসামির মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, রূপা ও নগদ টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ জেলা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক রাজেশ কুমার চক্রবর্তী আদালতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:২১