ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আগামীকাল ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে স্মৃতি স্মারকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই স্মৃতি স্মারক গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
উপাচার্য আরও জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাহস, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর ১৪ জুলাই ‘জুলাই নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এ দিবসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি স্মারক দিবস ঘোষণা নয়; বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘জুলাই কর্নার’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। সেখানে আন্দোলনের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, ভিডিও, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র এবং গবেষণাসামগ্রী সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যৎ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান আর্কাইভ হিসেবে কাজ করবে।
জানা গেছে, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচজনের পরিবারের সদস্যদের জাতির কৃতজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
ঢাবি উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের আঁকা ঐতিহাসিক গ্রাফিতিগুলো পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বার্তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জীবন্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএনবি/অনিমা/০৪ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৫:২৬