সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারির পর হামলা বাতিল করলেন ট্রাম্প?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। 

মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তেহরান জানিয়েছিল, হামলা হলে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, যেখান থেকেই আক্রমণ করা হবে, সেখানেই পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেওয়া হবে।

এসব আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান জানায়, দেশটির সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর যেকোনও হামলার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে।

এর পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে এবং ইরানের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করে সামরিক তৎপরতা আড়াল করা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে তেহরান।

এদিকে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক রস হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, হামলার হুমকির মুখে কোনও আলোচনায় বসবে না ইরান।

তার ভাষায়, “ইতিহাসে যখনই ইরান নমনীয়তা দেখিয়েছে, ওয়াশিংটন সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে। এরপর পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়েছে।”

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ধৈর্যের পরীক্ষা’ এবং ‘ইচ্ছাশক্তির লড়াই’ বলে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তার মতে, ইরান ইস্যুর সঙ্গে এখন লেবানন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, সৌদি-হুথি এবং ইরাকের মতো আরও কয়েকটি সংকট জড়িয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চাইলে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নিলেও অন্য পক্ষগুলো সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

হ্যারিসন বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। তবে তার মতে, “শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী কয়েক দিনে বোঝা যাবে, সত্যিই উত্তেজনা কমছে নাকি শুধু অবস্থান প্রদর্শনের রাজনীতি চলছে।”

রস হ্যারিসনের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কৌশল আসলে কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্প বারবার হামলার ইঙ্গিত দিয়ে পরে সেখান থেকে সরে এসেছেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প কেন পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন কিংবা তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনায় ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তার ধারণা, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এমনভাবে দেখা হতে পারে যে, উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকির কারণে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই পিছু হটেছেন।

হ্যারিসনের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রকৃত অর্থে উত্তেজনা প্রশমন বলা যাবে না।

তিনি বলেন, জুন মাসে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা থেকেই সাম্প্রতিক এই সংকটের সূত্রপাত। ইরান মনে করেছিল, ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সহযোগিতায় জাহাজগুলোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে। তার মতে, সেখান থেকেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।

তিনি বলেন, “প্রণালী খুলে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে স্পষ্ট কোনও চুক্তি না হলে বর্তমান পরিস্থিতি টিকবে না। আজকের ঘোষণাটি কেবল আরেকটি সাময়িক বিরতি হয়ে থাকবে।” সূত্র: আল-জাজিরা

কিউএনবি/অনিমা/০২ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১১:৩২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit