শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

ইরানে কুয়েত ও বাহরাইনের বিমান হামলা: প্রতিবেদন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ Time View

আন্তর্জাতিক  ডেস্ক :  যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে আত্মরক্ষার্থে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের দেশে হামলার জবাবে তেহরানে পাল্টা আঘাত করতে বাহরাইন ও কুয়েত যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার(২৪ জুলাই) ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দুটি দেশ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের গোয়েন্দা তথ্য ও ‘প্রতিরক্ষামূলক আকাশ-সুরক্ষা’ সহায়তা প্রদান করে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তবে আবুধাবি এক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছিল; তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার পর তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর একের পর এক (ডজনখানেক) হামলা চালায়।

বাহরাইন ও কুয়েতের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে লড়াই নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠার পাশাপাশি উপসাগরীয় এই দুটি দেশ তেহরানের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের তুলনায় সামরিক শক্তির দিক থেকে দেশ দুটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও, বাহরাইন তার প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।

ইরান এই দুটি রাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত হেনেছে, অথচ তাদের তুলনায় অনেক বড় ও ধনী প্রতিবেশী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপর সরাসরি আক্রমণ থেকে বিরত থেকেছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতার কারণে কুয়েত ও বাহরাইনকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বাহরাইন একটি দ্বীপ-রাজ্য। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে এর একমাত্র স্থল সংযোগ হলো সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত একটি কজওয়ে বা সেতু-সড়ক। ইরাক সীমান্তের কাছে মার্কিন হামলায় দুজন নিহত হওয়ার পর ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ (সমোচিত জবাব) নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে।

একসময় কুয়েত বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত অটোমান প্রদেশ বসরা-র সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এটি হরমুজ অঞ্চলের একেবারে উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং এর একপাশে রয়েছে ইরাক। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, কুয়েত ইরান এবং তেহরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী উভয়ের কাছ থেকেই তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছে।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জানিয়েছে, ইরান একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি বিশুদ্ধকরণ (ডেসালিনেশন) স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলো আপাতদৃষ্টিতে সীমিত পরিসরের মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি বড় পরিসরে পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলটি মানবিক সংকটের মুখে পড়বে।

কুয়েত ও বাহরাইনের সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধের ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে এমন সম্ভাবনা কম। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছিল। জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি কার্যত ভেস্তে গেছে; কারণ ইরান উপসাগরীয় রাষ্ট্র এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সংঘাতের শুরুর দিকে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর হামলা চালালেও, পরবর্তীতে তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অবশ্য রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল।

বছরের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছিল এবং ইরান ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার(২৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অ্যাক্সিওস’-কে বলেছেন, তিনি ইরানের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

কিউএনবি/অনিমা/২৫ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ২:৩৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit