ডেস্ক নিউজ : বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মা হুরুন নাহার রশীদ মারা গেছেন। ৮৩ বছর বয়সে তার ইন্তেকালে শেষ হলো দীর্ঘ, কর্মময় ও তাৎপর্যময় জীবনের অধ্যায়।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে রোববার (১ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হুরুন নাহার ছিলেন মুন্নু গ্রুপ অব কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী, বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজা মাহমুদের জননী। স্বামীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কন্যাকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব নিতে দেখা এ দুই প্রজন্মের অর্জন তার জীবনে এনে দেয় বিশেষ পরিপূর্ণতা।
১৯৫৫ সালে হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সঙ্গে তার বিবাহবন্ধন। এক তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন, সংগ্রাম ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তখন থেকেই জড়িয়ে যায় তার পথচলা। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রতিটি ধাপে পাশে থেকেছেন তিনি। আলোচনার কেন্দ্রে না থেকেও দৃঢ় হাতে গড়ে দিয়েছেন ভিত। পরিবারকে সুসংহত রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি শক্ত করা—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অবিচল।
মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সংযমী নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় প্রতিষ্ঠান পায় আরও শৃঙ্খলা। বিশেষ করে মুন্নু সিরামিকের ব্র্যান্ড পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় তার দূরদৃষ্টি ও পরামর্শের কথা ঘনিষ্ঠরা উল্লেখ করেন। স্বামীর সাফল্যের পেছনে যে স্থির সমর্থন প্রয়োজন, তার প্রতিফলন ছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও পরিবারের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা সুপরিচিত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের চাপ ও বাস্তবতার ভেতরেও সংসারকে স্থিতিশীল রেখেছেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় যে আসনে একদিন স্বামী দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই রাষ্ট্রের মন্ত্রিসভায় বড় কন্যার অন্তর্ভুক্তি তার জীবনের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে ওঠে।
স্বামী মন্ত্রী ছিলেন, শেষ সায়াহ্নে মেয়েকেও মন্ত্রী হিসেবে দেখে গেছেন এই পূর্ণতা ছিল তার নীরব গর্ব। উত্তরাধিকার যে শুধু ব্যবসা বা নামের ধারাবাহিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, দায়িত্ব ও নেতৃত্বেও বহমান তা জীবদ্দশাতেই প্রত্যক্ষ করেন তিনি। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট হারুনার রশীদ খান মুন্নুর ইন্তেকালের পরও ভেঙে পড়েননি। পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে দৃঢ় থাকেন। দুই কন্যা ও তিন নাতিকে ঘিরেই কেটেছে শেষ সময়।
বিমানমন্ত্রীর মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রোববার বাদ আসর মুন্নু মেডিকেল কলেজ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে স্বামীর পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কিউএনবি/আয়শা/০১ মার্চ ২০২৬,/রাত ১০:৪৫