মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

ভোলায় বিএনপি-বিডিপির মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ Time View

নিউজ ডেক্স : ভোলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার ( ৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পর বিএনপি ও বিডিপি পৃথক প্রেস ব্রিফিং করে হামলার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে।

জামায়াত সমর্থিত বিডিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাত ৯টায় জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউনুছ পাটওয়ারীর বাড়িতে যান। এ সময় স্থানীয় নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হেনস্তা করেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এক নারী কর্মী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে ওই নারী কর্মীর স্বামী জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে গালাগালি করা হয়। একপর্যায়ে রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এর মধ্যেই বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী বাজারে জড়ো হতে থাকেন।

নিজামুল হক নাঈমের অভিযোগ, এ ঘটনার পরে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। তিনি দাবি করেন, নিজেদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হলেও বাজার ত্যাগের সময় পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বিডিপির অন্তত ১৫ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন, যারা বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। 

অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও রাত সাড়ে ৯টায় বিএনপি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, জামায়াতের সহায়তায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা মাগরিবের পর লালমোহন থেকে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে বিডিপি সমর্থকরা যুবদল নেতা জসিম, তার ভাই আলমগীরসহ অন্তত ১৫ জনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে পাঁচজন গুরুতর আহত হন, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এ সহিংসতা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রশাসনের কাছে এসব চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের গ্রেফতারেরও দাবি জানান।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুপক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। 

 

 

 

কিউএনবি/মহন/১০ জানুয়ারি ২০২৬,/সকাল ১১:১৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit