বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

অ্যানকিলোসিং স্পন্ডিলাইটিস রোগ সম্পর্কে কতটা জানেন?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৫ Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক : রোগটি সহজে অর্থে এ রোগকে সংজ্ঞায়িত করলে বলা যায় অল্প বয়সে কোমর ও ঘাড় ব্যথার সমস্যা। যদিও এ সমস্যা বেশি বয়সে দেখা দেয়। তবে অল্প বয়সেও এ রোগ হানা দিতে পারে শরীরে। চিকিৎসা শাস্ত্রে মেরুদণ্ড ও জয়েন্টের এ সমস্যাকে বলা হচ্ছে অ্যানকিলোসিং স্পন্ডিলাইটিস। যার সংক্ষিপ্ত রূপ এএস।

এটি এমন একটি রোগ যাতে আক্রান্ত হলে আপনি কম বয়সেই শরীরে নানা স্থানে বিশেষ করে মেরুদণ্ড, কোমড় ও জয়েন্টের ব্যথার শিকার হবেন। গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন ও বাতরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রওশন আরা বলছেন, অ্যাংকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস রোগে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
 
এদিকে পরিসংখ্যান বলছে, এই রোগে পুরুষ ও নারীর আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ৩:১, যা থেকে বোঝা যায়, নারীর চেয়ে পুরুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ।
 
উপসর্গ
 
এই রোগে আক্রান্ত হলে মূলত রোগীর মেরুদণ্ড বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কোমর ব্যথা এই রোগের প্রধান উপসর্গ। কোমরের সঙ্গে ব্যথা থাকে হাত-পায়ের গিরা, গোড়ালি, রগ অথবা রগ ও হাড়ের সংযোগস্থলও।
 
শরীরের এমন ব্যথা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেশি তীব্র থাকে। এরপর রোগী ধীরে ধীরে দিনের প্রয়োজনীয় কাজকর্মের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার পর এ ব্যথা কমতে থাকে।
 
ব্যথার তীব্রতা অনেক সময় এতই বেশি হয় যে রাতে রোগীর ঘুম প্রায়ই ভেঙে যেতে পারে। রোগী ব্যথার স্থানে জড়তা অনুভব করে, সহজে ব্যথাযুক্ত স্থান নাড়াতে পারেন না। পিঠ শক্ত অনুভূত হয়। ঘাড় ও জয়েন্টে ব্যথা থাকে।
 
কারণ
 
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার প্রকৃত কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হতে পারে পারিবারিক বা জেনেটিক।
 
চিকিৎসা পদ্ধতি
 
এক্স-রে বা এমআরআই টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। এ রোগের সাধারণত কোনো নিরাময় নেই। তবে বিভিন্ন থেরাপি ও ওষুধের মাধ্যমে জটিলতার পরিমাণ কমিয়ে এনে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ব্যায়াম, ব্যথানাশক এবং বাতের সুনির্দিষ্ট কিছু ওষুধ এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা সঠিক সময়ে না করা হলে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা শতভাগ।

জটিলতা
সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা শুরু না হলে ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড শক্ত বা আড়ষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হিপ জয়েন্ট অকার্যকর হতে পারে। চোখে প্রদাহ, দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা, মেরুদণ্ডে চাপ থাকায় ফুসফুস ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অল্প বয়সে কোমর ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

কিউএনবি/খোরশেদ/০৩ নভেম্বর ২০২৫,/বিকাল ৫:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit