বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

ইলিশ গরিবের পাতে তোলা বড় কঠিন!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২০২ Time View

ডেস্ক নিউজ : চাষ করতে হয় না, নেই উৎপাদন খরচও। তারপরও কয়েক বছর ধরে নাগালের বাইরে ইলিশের দাম। আর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ এলেই ব্যবসায়ের উপলক্ষ্য হয় এই মাছ। বিক্রেতারা বাড়তি মুনাফা করতে নেমে পড়ে প্রতিযোগিতায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নববর্ষের দুই দিন আগেই খুচরা বাজারে ইচ্ছামতো দাম হাঁকানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন- বড় আকারের প্রতি কেজি ইলিশ সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এতে পান্তার সঙ্গে ইলিশ খেতে উচ্চবিত্তরা শখ করে কিনলেও মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের পাতে তোলা যেন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০-১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ১৩০০-১৫০০ টাকা। এছাড়া দেড় কেজি ওজন ও তারও বেশি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ১ কেজি ৩০০ গ্রামের ইলিশ ২৫০০-২৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে ‘রুপালি ইলিশের’ দাম আকাশচুম্বী। খুচরা ব্যবসায়ীরা আধাকেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকাচ্ছেন কেজিপ্রতি ২০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। আর এক কেজি বা তারও বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকার ওপরে। রাজধানীর কাওরান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. শুক্কুর আলী বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ এলেই ইলিশের চাহিদা বাড়ে। বাজারে বেশির ভাগ বড় আকারের ইলিশ হিমাগারে মজুত ছিল। সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট আকারের যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে তা সাগরের ধরা মাছ। 

কাওরান বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আরমান বলেন, নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া এক ধরনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই পরিবারের জন্য দেড় কেজি ওজনের দুটি ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছি। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। একই বাজারে মাছ কিনতে এসেছেন মো. জসিম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিক্রেতাদের কারসাজিতে কয়েক বছর ধরে ইলিশের দাম বাড়ছে। মূল্য বাড়িয়ে বিক্রেতারা ইচ্ছা করে ইলিশ উচ্চবিত্তের খাবারে পরিণত করেছে। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই ইলিশ কিনতে পারছি না। আর পহেলা বৈশাখ ঘিরে একটি মাছ কিনতে এসে দেখি দাম আকাশচুম্বী। এজন্য ইলিশ না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।

এদিকে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার চর্চা ‘বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খায় কেমন করে, পহেলা বৈশাখে তো ইলিশ পাওয়ার কথা নয়। আসলে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। তবুও ঢাকায় এটা চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে একাধিক সবজি কেজিপ্রতি ফের ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু সবজির কেজি ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, করলার কেজি ৮০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি টমেটো ৪০-৫০ টাকা, কচুরলতি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৯০ টাকা, পেঁপে ও শিম ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, শসা ৬০ এবং শজিনে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি বিভিন্ন মাছের দামও। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০০-১০০০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগেও ৭০০-৮৫০ টাকা ছিল। চাষের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭৫০ টাকা। প্রতি কেজি টেংরা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি দেশি শিং বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৯০০ টাকা, শোল ৮০০-৮৫০ টাকা, পুঁটি ৬০০-৮০০ টাকা। বড় আকারের রুই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ও তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ এপ্রিল ২০২৫,/রাত ১১:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit