ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট শিশুদের সংখ্যা ৩ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার শিশু রয়েছে। তারমধ্যে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে বিবিএস আয়োজিত জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু। এখানে আরও দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। বিবিএসের জরিপে দেখানো হয়, গ্রামীণ এলাকায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার শিশু, আর শহর এলাকায় আট লাখ ১০ হাজার শিশু শহর অঞ্চলে শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বেশি কাজ করতে দেখা গিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুদের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বিষয়ক তথ্য রয়েছে। এই বয়সের মোট শিশু জনসংখ্যা ৩ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার। যেখানে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী ৫৫.২%। দেশে ২ কোটি ৭ লাখ ৬৩ হাজার খানায় ৫-১৭ বছর শ্রমজীবী শিশু রয়েছে এবং স্কুলে উপস্থিতির হার বর্তমানে ৩৪.৮১%।
জরিপ হতে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দেশে শিশু শ্রমিকের ৮২% তাদের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে; উৎপাদনে ৩৩.৩% এবং কৃষি, বনায়ন এবং মাছ ধরায় ২৩.৬% নিযুক্ত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, শিশু শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত ৬৮.৮% এবং স্কুলে যায় ৫২.২%। শিশু শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এছাড়াও ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু গৃহকর্মী রয়েছে, যাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না এবং আট লাখ শিশু রয়েছে যারা পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত, উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। তিনটি প্রাথমিক সেক্টর যেখানে কৃষি, শিল্প এবং পরিষেবা শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে।
জরিপে বিবিএস দাবি করছে, আগামী ২০২৫ সালের মধ্য শিশুশ্রম নির্মূল করা হবে। বর্তমানে ২০২৪ সাল চলছে। যা এখন প্রস্তুতিমূলক পর্যায় পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় শিশু জরিপটি এক হাজার ২৮৪টি প্রাথমিক স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) থেকে ৩০ হাজার ৮১৬টি খানা (১২টি নন-রেসপন্স খানাসহ) নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে ৬৪টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মে ২০২৩ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ মার্চ ২০২৪,/বিকাল ৩:৪৪