আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানব পাচার ও জিম্মির অভিযোগে নেপালে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশি নাগরিকদের নেপাল হয়ে অন্যদেশে পাচার করত ও পাচারকৃতদের জিম্মি করে রাখত।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় নেপাল ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য হিমালয়্যান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে দুই সহযোগীসহ একদল বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে যারা অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নেপাল হয়ে তৃতীয় কোনও দেশে পাচারের দল পরিচালনা করত। এমনকি পাচারকৃতদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করত তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাঠমুন্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক ও দুই নেপালি সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নেপালে পাচার করা আট বাংলাদেশিকে জিম্মি করার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা হচ্ছেন- আমির হোসেন (৪৭), মো. মশিউর রহমান (৩৭), সেলিম মিয়া (৩৮), জাহাঙ্গীর আলম (২১) ও তাহমিনা বেগম (২১)। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত দুই নেপালি নাগরিক হচ্ছেন- তারা নেপালি (২৭) এবং রোহানি রায় (৩৩)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিম্মি থাকা বাংলাদেশিদের একজন আবু বকর সিদ্দিক পাচারকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে গিয়ে ভৃকুটিমন্ডপের ট্রাফিক পুলিশ অফিসে পৌঁছে অভিযোগ জানানোর পর
অপরাধের অভিযোগ জানাতে ভৃকুটিমণ্ডপে ট্রাফিক পুলিশ অফিসে পৌঁছানোর পর পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে নেপালি পুলিশ গেস্ট হাউজ, বিউটি পার্লার, স্পা সেন্টারের মত বিভিন্ন স্থান থেকে আট জিম্মিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাচারকারীদের আটক করার পর জানা যায়, জিম্মিদের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছিল পাচারকারীরা। মুক্তিপণের টাকাগুলো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নেপালে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু ১০ লাখ টাকা নেয়ার পরও পাচারকারীরা আরও অর্থ দাবি করতে শুরু করে এবং পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাদের হত্যার হুমকি দেয়।
কিউএনবি/অনিমা/১৪ অগাস্ট ২০২৩,/দুপুর ২:২২