লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : বাংলায় প্রচলিত একটি বাগধারা আছে ‘আদায়-কাঁচকলায়’। সাধারণত দুজন পরস্পর বিরোধী ব্যক্তির মধ্যকার সম্পর্ক বুঝাতে এ বাগধারার ব্যবহার সর্বত্র হয়ে আসছে।
উইকিটোনারির মতে, এ শদ্বের অর্থ বিরুদ্ধ স্বভাবযুক্ত, পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন। পরস্পর দ্বন্দ্বময় সম্পর্ক প্রকাশের ক্ষেত্রে উপমাস্বরূপ ‘আদায়-কাঁচকলায়’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রমতে আদার গুণ হলো রেচন, কিন্তু কাঁচকলার গুণ হলো ধারণ। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খেতে হয় আদা। অন্যদিকে, উদরাময় রোগে খেতে হয় কাঁচকলা।
অধিকন্তু, আদা যদি কাঁচকলার তরকারিতে পড়ে, তো কাঁচকলা আর সহজে সেদ্ধ হয় না। একটি অন্যটির ক্রিয়াকে অকেজো করে দেয়।
অর্থাৎ একটি অন্যটির বিপরীত কার্য করে। আদা ও কাঁচকলার পরস্পর বিপরীত ধর্ম থেকে শব্দটিরে এমন অর্থ তৈরি হয়েছে।
তবে ব্যতিক্রমও আছে। শুক্তোর প্রধান উপকরণ আদাবাটা এবং কাঁচকলা। এ ক্ষেত্রে শুক্তোর স্বাদ এমনিতে তিক্ত। তাই দুই তিক্ততায় কাটাকুটি হয়ে যায়। কাঁচকলার কোফতাতেও আদাবাটা দেওয়া হয়।
এই সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সামগ্রিক ভাবে আদা ও কাঁচকলার বিশেষ মুখ দেখাদেখি নেই রান্নার হাড়িতে। মানুষের সমাজেও তাই মুখ দেখাদেখি না থাকলে সে সম্পর্ককে বলে ‘আদায় কাঁচকলায়’৷
কিউএনবি/অনিমা/৯ অগাস্ট ২০২৩,/দুপুর ১২:৫৩