স্পোর্টস ডেস্ক : শেফালি ভার্মার অফসাইডের বলটি ড্রাইভ করেছিলেন ফারজানা হক পিংকি। ডিপ কভার দিয়ে সেটা সীমানা পার হওয়ার আগেই দুটি রান নিয়ে নেন এই ব্যাটার। তাতেই ইতিহাস গড়া হয়ে যায় তার। নারী ক্রিকেটের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে করেন সেঞ্চুরি। মেহরাব হোসেন অপির পাশে লেখা হয়ে যায় তার নামটিও। ছেলেদের ক্রিকেটে অপির হাত ধরেই টাইগার পেয়েছিল ব্যক্তিগত তিন অংকের রানের ছোঁয়া।
তবে ফারজানার আগেও মেয়েদের ক্রিকেটে সেঞ্চুরি দেখেছিল বাংলাদেশ। আর সেটা শারমিন আক্তারের হাত ধরে ২০২১ সালে। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শতরানের ইনিংসটি খেলেছিলেন। ১৪১ বলে ১১ চারে ১৩০ রান খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি। টাইগ্রেসরা সেদিন অপরাজিত ছিল ৩২২ রানে। সেই ম্যাচের স্বাক্ষী ছিলেন আজকের সেঞ্চুরিয়ান ফারজানাও ছিলেন। তিনি সেদিন ৬৭ রান করেছিলেন।
শারমিনের হাত ধরেই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম হয়েও প্রথম হতে পারেননি তিনি। কারণ সেটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা পায়নি। আর সে কারণেই আক্ষেপের অনলে পুড়তে হবে তাকে আজীবন। ২ বছর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না ওয়ানডে স্ট্যাটাস। তাই আন্তর্জাতিক খেলার মর্যাদা পায়নি ম্যাচটি। লিস্ট এ ক্রিকেটের মর্যাদা হয়ে থাকে সেটা।
কীর্তি গড়া হলেও স্বীকৃতি না পাওয়ার অপেক্ষার ২ বছরের অবসান হলো আজ। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছেন ফারজানা। পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার হিসেবেও কীর্তি গড়ে ফেলেছিলেন প্রায়। কিন্তু শেষ বলে রান আউট হয়ে অপরাজিত আর থাকা হলো না তার। সেটা না হলে বসে যেতে পারতেন শাহরিয়ার নাফিসের পাশে।
২০০৬ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কোয়ালিফাইং ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২৩ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন নাফিজ। ১৬১ বল খেলে ১৭ চার ও ১টি ছক্কায় পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করেন তিনি। আজ ফারজানাও সেই কীর্তি অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু শেষ বলে রান আউট হওয়ায় আর সেটা হয়নি। তবে আউট হওয়ার আগে ১৬০ বল খেলে ৭ চারে ১০৭ রান করেন তিনি। ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার ৯৭ বলে ফিফটি পূরণের পর ১৫৬ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন।
নারী ক্রিকেটের একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় শতক হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটাই প্রথম। ফারজানার এই সেঞ্চুরিটি বিশেষ হয়ে থাকবে, কারণ প্রতিপক্ষটা ভারত বলে। ফারজানার এই ইনিংসের আগে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল সালমা খাতুনের। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৫ রান করেছিলেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই প্রথম সেঞ্চুরি নয় ফারজানার। এর আগেও তিন অংকের রানের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সেটাও তিন বছর আগে। তাও আবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। একই ম্যাচে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেঞ্চুরি এ দুটিই।
কিউএনবি/আয়শা/২২ জুলাই ২০২৩,/বিকাল ৩:৪০