সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ‘ফ্লাই দুবাই’য়ের বিমান ছিনতাইয়ের এই ঘটনাকে সাজানো নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের নজর সরানো, নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন করে উস্কে দেওয়া।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমান। উড্ডয়নকালীন সময়ে হঠাৎ করেই ৩৪ হাজার ফুট উঁচু থেকে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।
পরবর্তীতে জানা যায়, বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেনের ওপর আচমকা হামলা চালিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন স্বয়ং কো-পাইলট। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানের ভেতরে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটি জরুরি অবতরণ করান। ওই ফ্লাইটে ২৭ জন শিশুসহ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে গত রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে অত্যন্ত গোপনীয় একটি সফর করেছিলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ঘটনার পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এমনকি নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে আমেরিকার ৯/১১ হামলার সঙ্গেও তুলনা করেন। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের তোলা এই ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা নাটক সাজানোর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বরাবরের মতোই এই ঘটনাতেও ইহুদিদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে, যা স্পষ্টত ইহুদি বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: প্রেস টিভি