বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যকে ইরানি হামলা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিল ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে সন্দেহজনক ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত একটি হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ৮ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কিছুদিন আগে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। ফেয়ারফোর্ডের ‘সাম্প্রতিক আতঙ্ক’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা ব্রিটিশদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিলাম, একটি হামলা হতে যাচ্ছে এবং সেটি ইরানের পৃষ্ঠপোষকতায় হবে। অথচ প্রায় পরদিনই তারা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তিনি ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণার প্রভাব এবং ইসলামপন্থি-মার্ক্সবাদী জোটের কাছে পশ্চিমাদের নতি স্বীকার অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেননি, তার দেওয়া সতর্কবার্তাটি সাধারণভাবে সম্ভাব্য কোনো হামলা নিয়ে ছিল, নাকি গত রোববার সকালে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ঘটে যাওয়া নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে ছিল।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিন দেওয়ার পর ব্রিটিশ জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে জেনে বা না জেনে কাজ করা প্রক্সি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এর অর্থ হলো, সন্দেহভাজনরা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে অর্থের বিনিময়ে কথিত হামলা চালানোর জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। গত এক দশকে ইরান, রাশিয়া এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে; এমন ব্যক্তিদের এ ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হয়।
বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরান কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। তবে তদন্তের অন্য কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অবশ্য ব্রিটিশ পুলিশের প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। কারণ পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরানকে যুক্ত করেনি। ইরানও রোববার সকালের ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার সময় বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান পার্ক করা ছিল। এর আগে ইরান ফেয়ারফোর্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি বৈধ লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়। সাবেক ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ কর্মকর্তারা পরে ধারণা দেন, ঘটনাটি শত্রুতামূলক গোয়েন্দা নজরদারি বা আরও বড় কোনো হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের ‘ড্রাই রান’ হতে পারে।
এক সাবেক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেন, এ কারণেই হয়তো পুলিশ সন্দেহজনক ভ্যানগুলোতে বিস্ফোরকের মতো কোনো কিছু খুঁজে পায়নি। সন্দেহভাজনদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সোমবার তিনি বলেন, তাদের ছেড়ে দেওয়ায় আমি অবাক হয়েছি। আমি এমনটা করতাম না।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তারা খুবই ভালো ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। তবে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি। আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম না।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৮:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit