আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান জানানোয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (আসিয়ান) তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ অবস্থানকে ‘বোকামিপূর্ণ ও অবাস্তব স্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের বার্ষিক আঞ্চলিক ফোরামে উত্তর কোরিয়ার চলমান পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় জোটটি।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তাদের পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বৈধ বলে দাবি করে আসছে। যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ২০২৩ সালে দেশটি নিজেদের সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে মর্যাদা অন্তর্ভুক্ত করে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রচারণার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আসিয়ান যে ‘স্পষ্ট বৈরী অবস্থান’ নিয়েছে এবং উত্তর কোরিয়ার সংবিধানকে উপেক্ষা করেছে, তাতে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
তার ভাষ্য, উত্তর কোরিয়ার সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি অব্যাহত রাখা কৌশলগত চিন্তা ও যুক্তির ব্যর্থতার পরিচয়। এটি বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত একটি ‘বোকামিপূর্ণ ও অবাস্তব কল্পনা’।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, আসিয়ানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাড়াটে মুখপাত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে বিরত থাকা।
চলতি বছরের জুনেও এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পিয়ংইয়ং নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয় পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে দাবি করে আসছে। ওই বৈঠকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র : এএফপি।
কিউএনবি/অনিমা/২৭ জুলাই ২০২৬,/দুপুর ১২:৪৫