মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকাসহ যেসব অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস প্রতিদিন কাঁচা রসুন খেলে যেসব বড় রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন ভূরুঙ্গামারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন এমপি আনোয়ারুল ৩ দিনের মধ্যেই নতুন কোচ পাচ্ছেন হামজারা, আলোচনায় আছেন যারা  কোম্পানীগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক ৬ চৌগাছায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্য দিবস পালন খাগড়াছড়িতে বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ, আহত ৪। হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষকদের বৈরী আবহাওয়া আর বানের জলের সাথে লড়াই  মে মাসের ১২ কেজি এলপিজির দাম ঘোষণা একটু বৃষ্টিতেই ডুবছে ঝালকাঠির সড়ক, টেন্ডার হলেও কাজ শুরু না করায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৩৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ ‘আমরা ভাটির দেশের মানুষ। পানির সাথে যুদ্ধ করেই আমরার জীবন চলে। সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি বোরো ধানের জন্য। অথচ বৃষ্টিতে সেই ধান এখন পানির নিচে।এ কারণে গ্রামের মানুষের মন ভালো না।’

আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার জিতন গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া। চলমান বৃষ্টিপাতে তার ক্ষেতের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু জিতন গ্রামের বাবলু মিয়াই নন, বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সাত উপজেলার কৃষকই এখন দিশাহারা।

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোনার সাতটি উপজেলাকে হাওর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করেছে কৃষি বিভাগ। ওই সাত উপজেলার মোট ১৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান এখন পানির নিচে।

সম্প্রতিক অতি বৃষ্টিতে বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় তলিয়ে গেছে মোট ২১ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমির বোরো ধান। এতে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক।

অনেকেই পানির নিচ থেকে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ফলনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
বোরা আবাদ ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে বর্তমানে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির সবজি আবাদও তলিয়ে গেছে অতি বৃষ্টিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ বিভাগে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ছয় লাখ ৬৮ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম।

মোট আবাদ হয়েছে ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর। এ আবাদে চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ ৯২ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন। এখনও বোরো কাটা শেষ হয়নি। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জান যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরে লোডশেডিংয়ের কারণে এ মৌসুমে শুরু থেকেই বোরো আবাদ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়। প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগ ছাড়াও শ্রমিক সংকট ও ধানের কম দামও নিয়েও ক্ষোভ রযেছে কৃষকের। এরপর অসময়ে অতিবৃষ্টি যেন কৃষকের ওপর আরো দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্ষা শুরুর আগেই ধান কাটার পরিকল্পনা ছিল নেত্রকোনা হাওরসহ বিভাগের নিচু এলাকায়। ওইসব নিচু এলাকায় বৃষ্টির আগেই শুরু হয় ধান কাটা। কিন্তু শতভাগ ধান কাটার আগেই গত ২৮ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি হতে থাকে। এতে শেরপুর বাদে বাকি তিন জেলায় ধান তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি তলিয়ে গেছে নেত্রকোনা জেলায়।

নেত্রকোনা মোট ১৬ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ধান এখনও পানির নিচে। ময়মনসিংহ বিভাগে চার হাজার ৮০৪ হেক্টর ও জামালপুর জেলায় এক হাজার ৮৬ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় সরকারি হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশপাশি ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক পড়েছে চরম বিপাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, খালিয়াজুড়ি, কলমাকান্দা, আটপাড়া ও কেন্দ্রুয়া উপজেলাকে হাওরাঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। এ সাত উপজেলায় ধান কাটা এখনও শেষ হয়নি। মোহনগঞ্জ ও মদন উপজেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটা হলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত বাকি উপজেলাগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে বিভাগের ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির সবজি আবাদও তলিয়ে গেছে। ময়মনসিংহ জেলায় তলিয়ে যাওয়া সবজির আবাদের জমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় মোট ৪০৫ হেক্টর জমির সবজি চাষ এখন পানির নিচে।

ময়মনসিংহ জেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সবজি আবাদ হয়। বৃষ্টিতে সবজির আবাদ তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি জেলার চর জেলখানায় গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজির আবাদে কৃষকেরা নানা সমস্যর মুখে। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ দিয়ে চরম বিপাকে তারা। পরে বৃষ্টির কারণে সেচের সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও এখনও দুশ্চিন্তা কাটেনি।

কৃষকরা জানান, সদর উপজেলার বেশিরভাগ সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত। অনেক সময় পাম্পে গিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এতে সবজির আবাদ ও ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ময়মনসিংহ বিভাগে গভীর ও অগভীর নলকূপসহ মোট এক লাখ ৮৬ হাজার ৬০৮টি সেচযন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বিদ্যুৎচালিত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক সালমা আক্তার বলেন, জ্বালনি তেলের সংকটেও আমরা চেষ্টা করেছি সেচের কাজে যেন বিঘ্ন না ঘটে। বিভাগের প্রত্যেক উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা রয়েছে কৃষকদের ফুয়েল কার্ড দেখে যেন বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত ডিজেল দেওয়া হয়। বাস্তবেও সেটা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে যেসব এলাকায় বোরো ধান তলিয়ে গেছে, সেসব এলাকায় আমরা বিশেষ নজর রাখছি।

কিউএনবি/বিপুল/০৩.০৫.২০২৬/বিকাল ৪.১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit