মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন

এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ক্লিনটন দম্পতি, নতুন নথি ঘিরে তোলপাড়

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত তিন মিলিয়ন নথির নতুন একটি সেট প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। 

এই নথিপত্র এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন এপস্টেইন মামলার তদন্তে সমন উপেক্ষা করায় ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতিনিধি সভায় আদালত অবমাননার ভোটের প্রস্তুতি চলছে। নতুন প্রকাশিত এসব ফাইলে বিল ক্লিনটনের কর্মীদের সঙ্গে এপস্টেইন এবং তার সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে, যার মধ্যে কিছু কুরুচিপূর্ণ ইমেল বিনিময়ও রয়েছে।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ এই সপ্তাহেই ক্লিনটন দম্পতিকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করতে ভোট দিতে পারে। এর আগে হাউজ ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান এবং কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। 

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত আগের নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে বিল ক্লিনটনের ছবি এবং জনৈক ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাকে উষ্ণ প্রস্রবণে (হট টাব) দেখা গেলেও, এবারের নথিগুলো মূলত ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ের যোগাযোগ নিয়ে। এই সময়ের মধ্যে বিল ক্লিনটন অন্তত ১৬ বার এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রকাশিত ইমেলগুলোতে দেখা যায়, ম্যাক্সওয়েল এবং ক্লিনটনের কর্মীদের মধ্যে ভ্রমণ, ডিনার এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। যদিও ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া দাবি করেছেন যে বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবে কখনও এসব ইমেল পাঠাননি। তার মতে, ক্লিনটন জীবনে মাত্র দুবার ইমেল ব্যবহার করেছেন। তবে ইমেলগুলোতে ম্যাক্সওয়েলের পক্ষ থেকে ক্লিনটনের কর্মীদের প্রতি কিছু চটুল মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি ইমেলে তৎকালীন ক্লিনটন উপদেষ্টা ডগ ব্যান্ডের নামও উঠে এসেছে।

নথিগুলোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের কিছু অপ্রমাণিত অভিযোগের তালিকাও রয়েছে, যেখানে বিল ক্লিনটনের নামও উল্লেখ আছে। তবে ট্রাম্প এবং ক্লিনটন উভয় পক্ষই এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট যেকোনো অপকর্মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। ক্লিনটনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, ২০০৬ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তার অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জেদ ধরেছেন ক্লিনটন দম্পতিকে সশরীরে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে। ক্লিনটনদের আইনজীবীরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তারা নিউইয়র্কে একটি সীমিত পরিসরে সাক্ষাৎকারের প্রস্তাব দিলেও কোমার তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

যদি এই সপ্তাহে আদালত অবমাননার প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে বিষয়টি ফৌজদারি প্রসিকিউশনের জন্য বিচার বিভাগে পাঠানো হতে পারে, যা ক্লিনটন দম্পতির জন্য আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

সূত্র: সিএনএন।

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit