ডেস্ক নিউজ : নীলফামারীর সৈয়দপুরে গোবরের ঘুটে বা শলাকা বানিয়ে তা বিক্রি করে সংসার চলছে হাজারও পরিবারের। অনেকে এসব বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরেজমিন দেখা যায়, শহর বা গ্রামের অনেকেই গরু-মহিষ পালন করছেন। কেউ কেউ বাণিজ্যিকভাবে খামার গড়ে তুলেছেন। অসচ্ছল পরিবারের নারীরা গরুর খামার বা আশপাশের গোবর কুড়িয়ে নিজ বাড়ি, রাস্তার পাশে অথবা ফাঁকা জায়গায় ঘুটে বা শলাকা তৈরি করছেন।
এরপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে জ্বালানির উপযোগী করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যখানে বিক্রি করছেন। প্রতি বস্তা শুকনো ঘুটে ২শ থেকে ৪শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আর গোবরের তৈরি শলাকা প্রতিটি ৩ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে একেকজন প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
শহরের ইসলামবাগ ফিদালী ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকায় বানু নামের এক নারী জানান, তার স্বামী একজন রিকশাচালক; তার পরিবারে মোট ৫ জন সদস্য। ভাড়া বাসায় থেকে স্বামীর রোজগারে সংসার চালাতে কষ্ট হয় বলে আশপাশ থেকে অথবা খামার থেকে গোবর সংগ্রহ করে ঘুটে ও শলাকা তৈরি করছেন তিনি। এতে একদিকে নিজ বাড়িতে রান্নার কাজ হচ্ছে, অন্যদিকে অবশিষ্ট ঘুটে ও শলাকা বিক্রি করে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। আর সেই টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছেন।
শহরের দারুল উলুম মাদ্রাসা মোড়সংলগ্ন রাজিয়া বেগম জানান, সামান্য আয়ের সংসার তার। গ্যাস বা লাকড়ি কেনার মতো সামর্থ্য নেই বলে আশপাশের গোবর কুড়িয়ে পাটকাঠি দিয়ে শলাকা তৈরি করছেন তিনি। এরপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে নিজ বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। আর বাকিটা বিক্রি করে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় করছেন।
আকলিমা পারভীন জানান, শহরের বাঙালিপুরে নিজপাড়ায় তার বাড়ি। স্বামী দুলাল হোসেন একজন বাস কন্ডাক্টর। কষ্ট করে ১ থেকে ২টি গরু কিনেছেন। বাড়ির গরুর গোবর আর সংগ্রহ করা গোবর দিয়ে জ্বালানি তৈরি করছেন। এরপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে নিজেদের সংসারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন। এক মেয়েকে সেই টাকায় অনার্সে পড়াশোনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ রায় জানান, গোবর দিয়ে তৈরি জ্বালানি পরিবেশবান্ধব। গোবরের সঙ্গে ধানের গুড়া মিশ্রণ করে ঘুটে ও শলাকা তৈরি করলে ভালো জ্বলে। আর জ্বালানি শেষে ওই ছাই ফসলের জমিতে ব্যবহার করা যায়। এতে জমি হয় উর্বর। ফসলও হয় পর্যাপ্ত।
কিউএনবি/আয়শা/৯ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৮:৫৫