ডেস্কনিউজঃ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং উপকূলে আঘাত হানার পর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধসে গেছে। সিত্রাংয়ের প্রবল তাণ্ডবে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত হয়। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি কমে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে কয়েক শ’ ঘর-বাড়ি ভেঙে গেছে। ধসে পড়েছে মেরিন ড্রাইভের একটি অংশ।
মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশে রোদের দেখা মিলছে। ফলে বাড়ি ফিরেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া বাসিন্দারা।
উখিয়া জালিয়া পালং ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল বাশার জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি উখিয়ার পাথুরে গাথা ইনানী সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান। সাথে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে সমুদ্র দেখতে দেখতে টেকনাফে ছুটে চলা তা এক অন্য রকম অনুভূতি। সেই মেরিন ড্রাইভ সড়কে আঘাত হেনেছে সিত্রাং। সিত্রাংয়ের আঘাতে ধসে যাওয়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংস্কারের জোরদাবি জানান তিনি।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা সাত-আট ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপের বেড়ি বাঁধের ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। জোয়ারের আঘাতে সাবরাংয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি বড় অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এছাড়া টেকনাফের কয়েক শ’ ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে সাগরের পানি ৭-৮ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে দ্বীপের অধিকাংশ জায়গায় পানি প্রবেশ করে। এমন পানি দ্বীপবাসী আগে কখনো দেখেনি। লোকজন বাড়িতে ফিরছে। দ্বীপে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপের চার দিকে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি কমতে শুরু করেছে।
শাহপরীর দ্বীপের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার এলাকার নাফ নদের তীরে শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া দ্বীপের আরো দুটি গ্রামে অর্ধশতাধিক ঘরের টিন-চাল উড়ে যাওয়ার খবর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধও।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এরফানুল হক চৌধুরী জানান, সিত্রাং আতঙ্কে সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফের ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন। পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছেন তারা।
তিনি আরো জানান, ঘূর্ণিঝড়ে সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপে বেশকিছু ঘরবাড়ি-রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত শতাধিকের বেশি ঘরবাড়ি ভাঙ্গার হিসাব পাওয়া গেছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সব জায়গা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত তথ্য নেয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কিছু অংশ ধসে গেছে।
কিউএনবি/বিপুল/২৬.১০.২০২২/ বিকাল ৩.৩৪