রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

আটোয়ারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

মোঃ জাহেরুল ইসলাম আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩০ Time View

মোঃ জাহেরুল ইসলাম আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতেও ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার (৭ নভেম্বর) নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে শিশুদের জন্য জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি বিষয় ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতযোগিতা শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদে শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায়-এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ রেজাউন নবী রাজা’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ.জেড.এম বজলুর রহমান (জাহেদ), আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা পশিম উদ্দীন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদুর রহমান প্রমুখ।

এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ হুমায়ুন কবীর, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ রোকনুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ সহ অন্যন্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরী করে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। এসময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি করা হয়। পরে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষনা করেন খালেদ মোশাররফ। ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষনা দেন। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান জিয়াউর রহমান।

অভ্যুত্থানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারী সহ নিহত হন খালেদ মোশাররফ। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। জিয়াউর রহমান ক্রমেই রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রিয় ভুমিকায় চলে আসেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়। আলোচনা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিষয় ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৭ নভেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit