ডেস্ক নিউজ : বিয়ের আগে ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে নিয়ে তালাকের কোনো শর্ত উচ্চারণ করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হবে কি না—এমন প্রশ্ন অনেকেরই রয়েছে। সম্প্রতি এমনই এক প্রশ্নের জবাবে বিয়ের আগে বলা তালাকের বাক্য সম্পর্কে শরিয়তের বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্নে বলা হয়, এক ব্যক্তি পরিবারে নিজের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করার সময় পর্দার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘বিয়ের পর যদি আমার স্ত্রীকে বেপর্দায় দেখি, তাহলে তিন তালাক।’ ওই সময় তার বিয়ে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরে তিনি নিজের বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হন এবং এ অবস্থায় করণীয় জানতে চান।
শরিয়তের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো পুরুষের তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি বিষয় বিবেচ্য। প্রথমত, যে নারীকে তালাক দেওয়া হচ্ছে, তিনি ওই ব্যক্তির বৈধ স্ত্রী হতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারী তখন স্ত্রী না হলেও তালাকের বক্তব্যটি ভবিষ্যতে তাকে বিয়ে করার সঙ্গে স্পষ্টভাবে শর্তযুক্ত হতে হবে।
এই দুই শর্তের কোনোটিই উপস্থিত না থাকলে তালাক কার্যকর হয় না বলে ওই ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নের ঘটনায় ওই বক্তব্য দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট নারী ব্যক্তিটির স্ত্রী ছিলেন না। পাশাপাশি বক্তব্যটিতে ভবিষ্যতে ওই নারীকে বিয়ে করার বিষয়টিকেও তালাকের শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ওই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে বিয়ে হলেও স্ত্রী বেপর্দায় চললে আগের ওই বক্তব্যের কারণে তালাক কার্যকর হবে না।
তবে তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় হওয়ায় এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসি-ঠাট্টা, আবেগ বা অসতর্কতার বশে তালাকসংক্রান্ত কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে বিয়ে ও দাম্পত্য জীবনের বিষয়ে শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে জেনে এবং প্রয়োজনে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২