বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

গোল্ডেন ভিসা কী, যে কারণে কঠোর হচ্ছে দেশগুলো

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অন্য দেশে গিয়ে বসবাসের সুযোগ পেতে অনেক সময় চাকরি বা পড়াশোনার প্রয়োজন হয়। তবে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেও কোনো কোনো দেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাই ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। আবার কিছু দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে সরাসরি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ কোনো না কোনোভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। ধনী ও সচ্ছল মানুষের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই মূলত এই বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে।

কেন মানুষ গোল্ডেন ভিসা নেয়

বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা, সন্তানদের ভালো শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, ব্যবসার সুযোগ কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকে এসব কর্মসূচির দিকে ঝোঁকেন। কেউ কেউ করব্যবস্থা বা জীবনযাত্রার সুবিধার কারণেও অন্য দেশে বসবাসের সুযোগ খোঁজেন।

বিশেষ করে চীনের ধনী নাগরিকদের মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ বেশি। তবে শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাই এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বিতর্ক কেন

গোল্ডেন ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শুধু অর্থের বিনিময়ে একজন বিদেশিকে কোনো দেশে বসবাসের সুযোগ দেওয়া কতটা নিরাপদ ও ন্যায্য? ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছে, এসব কর্মসূচি অর্থ পাচার, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

২০১৮ সালে গ্রিসে চীনা বিনিয়োগকারীদের ঘিরে একটি প্রতারণার ঘটনা আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, দেশটির কিছু আবাসন ব্যবসায়ী বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ইউরোপে কঠোর হচ্ছে নিয়ম

এসব উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোর গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি বন্ধ করা এবং গোল্ডেন ভিসায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দিকে এগোয়। এর ফলে ইউরোপে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।

গ্রিস অবশ্য গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু রেখেছে। ২০২৩ সালে দেশটির জনপ্রিয় কিছু এলাকায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ইউরো করা হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

স্পেনসহ কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত

স্পেনও গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতো। এসব কর্মসূচিতে রাশিয়া ও চীনের ধনীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিনিয়োগের বড় অংশ আবাসন খাতে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বাড়ির দাম ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল করেছে।

সব মিলিয়ে বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসনের সুযোগ ধীরে ধীরে কমছে। অর্থনৈতিকভাবে এসব কর্মসূচি সরকারের জন্য লাভজনক হলেও অর্থ পাচার, আবাসন সংকট ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অনেক দেশ এখন সুবিধা-অসুবিধা নতুন করে বিবেচনা করছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit