আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছড়াতে থাকা যুদ্ধের আগুন প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তাপ যখন দিন দিন বাড়ছে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের দিকে শান্তির এক নতুন কৌশল ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে একটি বিশেষ ৭ দিনের রোডম্যাপ।
ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবটি যেমন সোজা, তেমনই বেশ স্পষ্ট। আগামী সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের মূল কিছু দাবি মেনে নিতে হবে। তেহরানের প্রধান শর্ত হলো এই সময়ের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে যাবতীয় রক্তক্ষয়ী হামলা ও সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।
এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের বিশাল অঙ্কের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর চড়ানো সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবরোধ সরিয়ে নেওয়ার দাবিও এতে সামিল রয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি এই শর্তগুলো নিখুঁতভাবে মেনে নেয়, তবে ঠিক সাত দিনের মাথায় ইরানও ইতিবাচক পা ফেলবে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত ও প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার সকল জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আর যে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল, তা নিয়ে কালবিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবেন।
যদিও এই রোডম্যাপ ঘিরে দুই পক্ষ থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিতের আভাস মিলছে, তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা খুব দ্রুত কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা দেখছেন না। তাদের মতে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন এত কম সময়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সত্যিই এক বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও, তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই ৭ দিনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোর গুঞ্জন ও আশার সঞ্চার করেছে।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:০৮