আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হুথিদের হামলায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মাখা বন্দরের দক্ষিণে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে চার নাবিক নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় ছিলেন।
পরে জাহাজটি থেকে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরও কয়েকজন হতাহত হন।
হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, জাহাজটিতে খাদ্যপণ্য ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে জাহাজে হুথিদের এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে গত মাসে হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। গত মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনাও বেড়েছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের যাচাই করা ছবিতে বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ দেখা গেছে। কাছ থেকে তোলা ছবিতে জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি লোহিত সাগরের ওয়ার্নার পয়েন্টের কাছে অবস্থান করছে। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জাহাজটিকে তানজানিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি একটি মিশরীয় অপারেটরের মালিকানাধীন।
হুথিদের সর্বশেষ হামলায় লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/১২ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৯:৩৯