দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের জমিদার পাড়া গ্রামে বসতভিটার জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম ও তাঁর শ্যালকদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পরও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হুমকি-ধমকি ও অশোভন আচরণ বন্ধ হয়নি। এতে তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নুরুল ইসলাম ও তাঁর শ্যালকেরা জমি দখল এবং মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে, গত ১০ অক্টোবর তিনি ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই নুরুল ইসলাম ও তাঁর শ্যালক মকবুল হোসেন তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে হুমকি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর করে চামড়া তুলে নেওয়া, বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত তিনি কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের আচরণ আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নিজের বসতভিটায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ এবং জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি দৃষ্টি দাবি করে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। ভুক্তভোগীর দাবি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, থানা-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
১. তাঁর দায়ের করা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা।
২. ধারণকৃত ভিডিও এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা।
৩. জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য বিরোধপূর্ণ জমি ও পারিবারিক নিরাপত্তার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তিনি ন্যায়বিচার, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আইনসম্মতভাবে নিজের বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে চান। এখন প্রশ্ন—থানায় অভিযোগ দায়ের ও পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরও যদি হুমকি অব্যাহত থাকার অভিযোগ ওঠে, তাহলে ভুক্তভোগী পরিবার কার্যকর সুরক্ষা পাবে কোথায়? স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ভুক্তভোগীর প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর পরিবারকে নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
কিউএনবি/অনিমা/২৪ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০৬