আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেভেনটিনথ স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে এক ব্যক্তি অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালাচ্ছেন— এমন একটি জরুরি খবর পেয়ে সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্মড ডিভিশনের কর্মকর্তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এরপরই সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
সেখানে উপস্থিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা দফায় দফায় কয়েক ডজন গুলির শব্দ শুনতে পান, যার পরপরই সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র এজেন্টরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুরো নর্থ লন এলাকা ঘিরে ফেলেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ব্যুরোর বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
গোলাগুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘নিচে ঝুঁকে পড়ুন’ এবং ‘গুলি চলছে’ বলে চিৎকার করতে করতে সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াইং এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, তিনি যখন নর্থ লনে নিজের আইফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য একটি ভিডিও ধারণ করছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে একের পর এক গুলি চলতে শুরু করে। প্রাণভয়ে তিনিসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রেস ব্রিফিং রুমের দিকে দৌড় দেন।
দীর্ঘক্ষণ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করার পর অবশেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হোয়াইট হাউসের লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগেও হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের অনুষ্ঠান চলাকালীন কোল টমাস অ্যালেন নামের এক বন্দুকধারী শটগান হাতে সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল এবং ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হোয়াইট হাউসের দোরগোড়ায় এমন ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল বা গুলিবিদ্ধদের পরিচয় কী, তা জানতে ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তদন্ত শুরু করেছে সিক্রেট সার্ভিস।
সূত্র: সিএনএন