১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:০৩

কাপ্তাই হ্রদে স্প্রিডবোটগুলোতে যাত্রীদের  জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

 

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : ঈদকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের ঘরমুখো মানুষদের কাছ থেকে দ্বিগুন হারে ভাড়া আদায় করছে কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি স্প্রিডগুলো। সারাবছরই রাঙামাটি থেকে লংগদু উপজেলায় যাতায়াতকারি স্প্রিডগুলো জনপ্রতি ৫শ টাকা হিসেবে ভাড়া নিলেও ঈদ কে কেন্দ্র বুধবার সকাল আটটার পর থেকেই একলাফে ভাড়া আদায় করেছে একহাজার টাকা করে। এতে করে ঘরমুখো নিন্ম আয়ের কয়েকশো যাত্রী বেশ বিপাকে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাঙামাটি থেকে বর্তমান করোনাকালীন সময়ে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় দেশীয় ইঞ্জিনবোট ও স্প্রিডবোটকেই চলাচলের একমাত্র বাহন হিসেবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করছে। ৫০ থেকে ৭০টি স্প্রিড বোটে করে যাত্রীরা ৫শ টাকা করে চলাচল করলেও মঙ্গলবার থেকে ভাড়া আদায় করতে শুরু করে ৬শ টাকা।

বুধবার সকাল আটটার পর হতে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করাহয় হাজার টাকায়। সরেজমিনে গিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ প্রাপ্তির পর বিষয়টি নিয়ে জানতে স্প্রিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি কুদ্দুস কোম্পানীকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। লংগদুমুখী যাত্রী শিক্ষানবিস আইনজীবি হারুনুর রশিদ, ছাত্রনেতা নাজিম আল হাসান, যাত্রী শ্যামল মিত্রসহ একাধিক যাত্রী জানালেন,বিগত পুরো বছরজুড়েই স্প্রিডবোটগুলোতে প্রতিজন যাত্রী থেকে ৫’শ টাকা ভাড়া নিতো। বুধবার সকালেও সেই ভাড়া ৬’শ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সকাল আটটার পর থেকে হঠাৎ করেই এক হাজার টাকা দাবি করতে শুরু করে। এতে করে সময় স্বল্পতার কারনে কিছু কিছু যাত্রী কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে চলে গেলেও নিন্ম আয়ের শতাধিক মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা কওে ভাড়া কমানোর অনুরোধ জানাতে থাকে। যাত্রীদের ভাড়া প্রদানে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে স্প্রিডবোট মালিক পক্ষের নিয়োজিত লাইনম্যান ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। সাংবাদিকের তৎপরতা ও যাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠায় দুপুরে ঘটনাস্থলে আসেন লাইনম্যান মহিউদ্দিন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, সামান্য তেল খরছ বেশি নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতিদিনই রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত দেড় শতাধিক যাত্রীবাহি স্প্রিডবোট চলাচল করে। প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট্য কর আদায়কারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো প্রকার ট্যাক্স নাদিয়ে এবং অবৈধভাবে ষ্ট্যান্ড বানিয়ে স্প্রিডবোটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ-বিএনপি, জেএসএস ও অন্যান্য আঞ্চলিকদলের কয়েকজন নেতা। প্রতিটি স্প্রিড বোটে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধিও। প্রতিবাদকারি যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়তই বচসায় লিপ্ত হচ্ছে স্প্রিড বোট চালকরা। যাত্রী হয়রানী চরমে পৌছুলেও দেখার যেন কেউ-ই নেই।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ /রাত ৮:৫৮

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন